সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে - সহবাসের কতদিন পর বমি হয়

সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে এবং সহবাসের কতদিন পর বমি হয় এই বিষয়ে অনেকে জানতে চান তাই আজকে আপনাদের জানাবো সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে এই সম্পর্কে এবং এ সম্পর্কিত আরো কিছু বিষয়ে তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে এই সম্পর্কে বিস্তারিত।
সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে

সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে সহবাসের কতদিন পর বমি হয় বাচ্চা নেওয়ার জন্য সহবাসের পদ্ধতি সহ এই সম্পর্কিত বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ুন।

সূচিপত্র: সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে - সহবাসের কতদিন পর বমি হয়

সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে

সহবাস করার মাধ্যমে একজন নারী গর্ভধারণ করে এবং গর্ভধারণ করার পরে একজন নারী মা হতে পারে। কিন্তু যাদের কম বয়সে এবং নতুন বিয়ে হয়েছে তারা অনেকেই জানেনা সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে। সহবাস এর পরে সবার একই সময়ে বুঝা যায় না যে পটে বাচ্চা এসেছে এটা বুঝা যায় বিভিন্ন জনের শারীরিক ক্ষমতার ওপর।   

তবে বেশির ভাগ সময় এবং প্রায় সবার ক্ষেত্রেই সহবাস করার ১৪ থেকে ২১ দিন এর মধ্যেই বুঝা যায় যে পেটে বাচ্চা এসেছে। আবার অনেক সময় সহবাস করলেও পেটে বাচ্চা না আসতে পারে তাই সহবাস করলেই যে পেটে বাচ্চা আসবে এমনটা না হতেও পারে বিশেষ কিছু নিয়ম মেনে সঠিক ভাবে সহবাস করলে পেটে বাচ্চা আসে। সহবাস করার পরে অনেকেই ভালোভাবে বুঝতে পারে না পেটে বাচ্চা এসেছে কিনা কিন্তু পেটে বাচ্চা আসলে কিছু লক্ষণ দেখা দেয় আর সহবাস করার কিছুদিন পরে এসব লক্ষণ দেখা দিলে কিছুটা বুঝে নিতে হবে যে পেটে বাচ্চা এসেছে।  

আরো পড়ুন: তরল বীর্য গাড় করার উপায় - বীর্য গাড় করার প্রাকৃতিক উপায় 

গর্ভবতী হলে বা পেটে বাচ্চা আসলে যেসব লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো হলো: মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া, বমি বমি ভাব হওয়া, খাবার খেতে ভালো না লাগা, স্তনের পরিবর্তন, খাবারে অরুচি,  ঘন ঘন প্রসাব হওয়া, ক্লান্ত লাগা, শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া। সহবাস করার কয়েকদিন বা দুই সপ্তাহ পর যদি এসব লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে বুঝতে হবে পেটে বাচ্চা এসেছে এবং তারপর ডাক্তারের কাছে গিয়ে টেস্ট করালে আরো ক্লিয়ার হতে পারবেন পেটে বাচ্চা এসেছে কিনা।

সহবাসের কতদিন পর বমি হয়

অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন সহবাসের কতদিন পর বমি হয় আসলে সহবাসের পরে পেটে যখন বাচ্চা আসে তখন মূলত নারীদের বমি বমি ভাব হয় এবং বমি হয় তবে সহবাসের কতদিন পর বমি হয় এটা নিদিষ্ট কোনো সময় দিয়ে বলা যাবেনা কারণ বমি বিভিন্ন জনের বিভিন্ন সময় হতে পারে। 

তবে আনুমানিক ভাবে বলা যায় সহবাসের ২০ থেকে ৪০ দিনের মধ্যে বমি হয় বা বমি বমি ভাব হয়। এবং গর্ভধারণের ১ মাস পর থেকেই গর্ভধারণের কিছু লক্ষণ দেখা দেয় এবং সেগুলো কিছুটা অসত্বিকর হয়ে থাকে।

বাচ্চা নেওয়ার জন্য সহবাসের পদ্ধতি 

বন্ধুরা এতক্ষণ আমরা জানলাম সহবাসের কত দিন পর পেটে বাচ্চা আসে এবং সহবাসের কতদিন পর বমি হয় এই সম্পর্কে এবার জানবো বাচ্চা নেওয়ার জন্য সহবাসের পদ্ধতি। সহবাসের মাধ্যমে গর্ভে সন্তান আসে কিন্তু বাচ্চা নেওয়ার জন্য সঠিক পদ্ধতিতে সহবাস করা বেশি ভালো কারণ সঠিক পদ্ধতিতে সহবাস করলে তারাতাড়ি পেটে বাচ্চা আসার সম্ভাবনা থাকে। বাচ্চা নেওয়ার জন্য সহবাসের কিছু পজিশন রয়েছে সেগুলো পজিশনে সহবাস করলে বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে বাচ্চা নেয়ার জন্য যেসব পজিশনে সহবাস করবেন সেগুলো সম্পর্কে জেনে রাখুন। 

১। মিশনারি পজিশন: মিশনারি পদ্ধতি হলো একটি সেরা এবং প্রাচিন পদ্ধতি মিশনারি পদ্ধতি হলো মহিলা নিচে থাকবে এবং পুরুষ উপরে থাকবে এবং মহিলার পিঠের নিচে বালিশ দিলে আরো ভালো হয়। এই পদ্ধতিতে সহবাস করলে লিঙ্গ গভীরে প্রবেশ করতে সহায্য করে পুরুষাঙ্গ যখন গভীরে থাকে তখন বীর্য নির্গত হলে জরায়ুর কাছাকাছি হয় এবং গর্ভধারণের সম্ভাবনা তারাতাড়ি বেড়ে যায়। 

আরো পড়ুন: গর্ভাবস্থায় সহবাস করার ১২ টি উপকারিতা - গর্ভাবস্থায় সহবাস করার ইসলামিক নিয়ম

২। ডগি স্টাইল: বাচ্চা নেওয়ার জন্য সহবাসের সেরা একটি পজিশন হলো ডগি স্টাইল।  ডগি স্টাইল হলো মেয়ে হাত ও পা ভর দিয়ে নিচু হয়ে থাকবে আর পুরুষ সেই অবস্থাতে লিঙ্গ যৌনিতে প্রবেশ করাবে এভাবে সহবাস করলে মেয়ের অর্গাজম তারাতাড়ি হয় এবং পুরুষের বীর্য ভিতরে গেলে গর্ভধারণের জন্য ভালো কাজ করে।

৩। লেগস অন শোল্ডার: সহবাস করার জন্য এবং বাচ্চা নেওয়ার জন্য এই পদ্ধতি অনেক জনপ্রিয়। লেগস অন শোল্ডার পজিশন হলো মহিলা সুয়ে থাকবে এবং দুই পা সঙ্গীর কাধের ওপর রাখবে। পুরুষ সঙ্গী দুই পায়ের মাঝখানে থেকে সামনে দিকে চাপ দিবে এভাবে জোরে জোরে চাপ দেওয়া যায় এবং এই অবস্থায় যখন বীর্যপাত হবে তখন বীর্য সহজেই ভিতরে চলে যাবে এতে করে গর্ভধারণের সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৪। মুখোমুখি পজিশন: মুখোমুখি পজিশন হলো উভয় সঙ্গী মুখোমুখি হয়ে লিঙ্গ প্রবেশ করিয়ে সহবাস করলে মহিলা শুক্রাণু গ্রহণের জন্য প্রস্তুত হয় এবং গভীরে প্রবেশ করে সেজন্য পেটে বাচ্চা আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে। বাচ্চা নেওয়ার জন্য এইগুলো পদ্ধতিতে সহবাস করবেন এবং সহবাস করার আগে পবিত্র হয়ে নিবেন।

বাচ্চা নেওয়ার জন্য সহবাসের উপযুক্ত সময়

বাচ্চা নেওয়ার জন্য সহবাসের পদ্ধতি বা উপযুক্ত সময় হলো কোনো মহিলার যখন ওভুলেশন এর সময় হয় তখন মহিলারা বেশি ফার্টাইন হয়ে থাকেন। সেই সময় যদি সহবাস করা হয় তাহলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে। তবে অনেক সময় ওভুলেশন এর সঠিক সময় বোঝা যায় না  সেজন্য ওভুলেশন এর সময় বুঝতে ওভুলেশন কিট ব্যবহার করতে পারেন তাহলে সঠিক ভাবে ওভুলেশন এর সময় বুঝতে পারবেন এবং তখন সহবাস করলে পেটে বাচ্চা আসবে।

বাচ্চা নেওয়ার জন্য মাসির এর পরে চারটি সময় আসে সেই সময় গুলোতে সাদাস্রাব এর মাধ্যমে বুঝা যাবে এবং যখন উপযুক্ত সময় সেই সময় সহবাস করলে বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মাসিকের পর চারটি ধাপে সাদাস্রাব হয় মাসিকের পর পরই সাদাস্রাব হয় কিন্তু সেটা তেমন বুঝা যায় না এবং আঠালো হয় না সেই সময় সহবাস করলে গর্ভধারণ করার সম্ভাবনা ০.৩% থাকে। 

আরো পড়ুন: প্রতিদিন সহবাস করলে কি হয় - দীর্ঘদিন সহবাস না করার ১০ টি ক্ষতি 

দ্বিতীয় অবস্থায় যোনিপথ হালকা ভেজা থাকে কিন্তু সাদাস্রাব তেমন থাকে না এই সময় সহবাস করলে গর্ভে সন্তান আসার সম্ভাবনা ১.৩ % থাকে। তৃতীয় অবস্থায় সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা ২.৫% থাকে। আর চতুর্থ অবস্থায় সাদাস্রাব ভালো বুঝা যায় অনেক আঠালো হয়ে থাকে আঙ্গুলে লাগলে ভাঙ্গে না আর সেই সময়ই হলো বাচ্চা নেওয়ার জন্য উপযুক্ত সময়। এই সময় সহবাস করলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা ২৮.৬% থাকে।

মাসিকের কত দিন পর সহবাস করলে গর্ভবতী হয় না

মাসিকের কত দিন পর সহবাস করলে গর্ভবতী হয় না?  মাসিক শুরু হওয়ার আগের সাত দিন এবং মাসিক হয়ে যাওয়ার পরের সাত দিন সহবাস করলে গর্ভবতী হওয়া সম্ভাবনা অনেক কম থাকে সেজন্য এই সময় কে সহবাসের নিরাপদ সময় ধরা হয়। 

তবে অনেক সময় এই সময়ে সহবাস করলে গর্ভে সন্তান আসতে পারে আর আপনি যদি সন্তান না নিতে চান তাহলে এই সময়তেও জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ করা ভালো আর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি হিসেবে কনডম ব্যবহার করতে পারেন কারণ এটা অনেকটা নিরাপদ। 

পিরিয়ডের কত দিন আগে সহবাস করলে সন্তান হবে না

পিরিয়ডের কত দিন আগে সহবাস করলে সন্তান হবে না এই সম্পর্কে ইতোমধ্যে বলে দিয়েছি। আবারো বলি পিরিয়ডের ৭ দিন আগে সহবাস করলে সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। 

একেবারে বলা যাবে না যে সন্তান হবে না তবে না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আর আপনি যদি সন্তান না নিয়ে চান তাহলে এই সময় এর উপর নির্ভর না হয়ে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করে সহবাস করবেন।

মিলনের কতদিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হয়

মিলনের কতদিন পর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করতে হয় এটা অনেকেই প্রশ্ন করে থাকেন। মিলনের পরে পরবর্তী মাসিক এর সময় এর ১  বা ২ সপ্তাহ মিস হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে তারপর প্রেগন্যান্সি টেস্ট করালে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।  

যদি সহজ ভাষায় বলি তাহলে সহবাস করার পরে যে মাসিক এর সময় আসবে সেই সময় পার হয়ে যাওয়ার ১ বা ২ সপ্তাহ পর মাসিক না হলে বুঝতে হবে গর্ভধারণ করেছেন এবং সেই সময় প্রেগন্যান্সি টেস্ট করাবেন। আর গর্ভধারণের কিছু লক্ষণ রয়েছে সেগুলো দেখতে পেলেও প্রেগন্যান্সি টেস্ট করাতে পারেন।  

সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে - সহবাসের কতদিন পর বমি হয়: শেষ কথা 

বন্ধুরা আজকের পোস্টে আলোচনা করা হয়েছে সহবাসের কত দিন পর বাচ্চা পেটে আসে সহবাসের কতদিন পর বমি হয় এই বিষয় সহ এই সম্পর্কিত আরো কিছু বিষয়ে আশা করছি আপনারা এই সকল বিষয়ে ভালো ধারণা পেয়ছেন।  

Google নিউজে আমাদের ফলো করতে এখানে ক্লিক করুন তারপরে ফলো করুন 

যদি এই পোস্টটি পড়ে কিছুটা উপকৃত হন তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাবেন এবং এই বিষয়ে আরো কিছু জানতে চাইলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন। এবং এরকম আরো বিভিন্ন বিষয়ে জানতে আমাদের ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করতে পারেন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন