আনারসের ১২ টি উপকারিতা ও অপকারিতা - আনারস খাওয়ার নিয়ম

আনারস খেতে অনেক সুস্বাদু আজকে আপনাদের জানাবো আনারসের ১২ টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। আনারসের মধ্যে অনেক পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী কিন্তু আমরা বেশিরভাগ মানুষ সেগুলো সম্পর্কে জানিনা।
আনারসের ১২ টি উপকারিতা ও অপকারিতা

তাই আপনি যদি না জেনে থাকেন আনারসের উপকারিতা গুলো সম্পর্কে তাহলে নিজের অংশগুলো থেকে জেনে নিন আনারসের ১২ টি উপকারিতা ও অপকারিতা সহ এই সম্পর্কিত আরো বেশ কিছু বিষয়ে। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ আনারসের ১২ টি উপকারিতা ও অপকারিতা 

আনারসের ১২ টি উপকারিতা ও অপকারিতা

আনারসের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ফসফরাস, পটাশিয়াম আরো ইত্যাদি অনেক পুষ্টিগুণ। তাই শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে শরীরের জন্য অনেক উপকারী হিসেবে কাজ করে এই আনারস। জেনে রাখুন আনারসের ১২ টি উপকারিতা ও অপকারিতা। 

  • হজম শক্তি বৃদ্ধি করে
  • জ্বর নিরাময় করে
  • জন্ডিস ভালো করে
  • ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধ করে
  • দাঁত ও মাড়ি মাড়ি মজবুত করে
  • পুষ্টির অভাব পূরণ করে
  • শরীরের ওজন কমায়
  • ত্বকের যত্নে উপকারী
  • ক্যান্সার প্রতিরোধ করে
  • কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে
  • চোখের জন্য উপকারী
  • হৃদরোগ প্রতিরোধ করে

হজম শক্তি বৃদ্ধি করে

অনেকের খাবার খাওয়ার পরে সেটা তাড়াতাড়ি হতে চাই না এর কারণ হলো সেই ব্যক্তির হজম শক্তি কম। মানুষের মধ্যে ব্রোমেলিন নামক এনজাইম রয়েছে তাই আনারস খেলে হজম শক্তি অনেকটা বৃদ্ধি পায়। 

জ্বর নিরাময় করে

মানুষের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি যা জ্বর নিরাময় করতে ভালো উপকারী। তাই কারো যদি জ্বর হয় তাহলে সেই মুহূর্তে আনারস খেতে পারেন ইনশাআল্লাহ জ্বর তাড়াতাড়ি নিরাময় হয়ে যাবে।

জন্ডিস ভালো করে

অনেকে জন্ডিসের আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আর এই জন্ডিস ভালো করার জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করেও ভালো হয় না কিন্তু আপনি যদি আনারস খান তাহলে আশা করা যায় আপনার জন্ডিস অনেকটা ভালো হয়ে যাবে। তবে এটা খেলে যে একেবারে ভালো হয়ে যাবে তা কিন্তু নয় সেজন্য এর পাশাপাশি আপনাকে চিকিৎসকের চিকিৎসা নিতে হবে। 

আরো পড়ুনঃ শিমুল মূলের ১৫ টি উপকারিতা - শিমুল মূলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ঠান্ডা কাশি প্রতিরোধ করে

আনারসের মধ্যে থাকা ভিটামিন সি ঠান্ডা এবং কাশি প্রতিরোধ করতে ভালো কাজ করে থাকে। তাই আপনার যদি ঠাণ্ডা এবং কাশি হয়ে থাকে তাহলে সেই সময় আনারস খাবেন ইনশাআল্লাহ ঠান্ডা লাগা এবং কাশি ভালো হয়ে যাবে। 

দাঁত ও মাড়ি মাড়ি মজবুত করে

আনারসের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম যা দাঁত এবং মাড়ি মজবুত রাখতে কাজ করে থাকে। তাই আপনি যদি নিয়মিত আনারস খেতে পারেন তাহলে আপনার দাঁত ও মাড়ি মজবুত থাকবে এছাড়াও দাঁতের মাড়ির বিভিন্ন সমস্যা থেকে নিরাপদ রাখবে। 

পুষ্টির অভাব পূরণ করে

শরীরের পুষ্টির অভাব পূরণ করতে আনারস অনেক বেশি উপকারী কারণ আনারসের মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ যেমন ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম ইত্যাদি। এসব পুষ্টিগুণ শরীরের পুষ্টির চাহিদা অভাব পূরণ করে। 

শরীরের ওজন কমায়

আনারসের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং আঁশ। যা শরীরের ওজন কমাতে অনেক উপকারী। তাই আপনি যদি আপনার শরীরের ওজন কমাতে চান তাহলে আনারস খেতে পারেন অথবা আনারসের জুস তৈরি করে খেতে পারেন।

ত্বকের যত্নে উপকারী

মানুষের মধ্যে রয়েছে প্রোটিন যা ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। এছাড়াও এর মধ্যে রয়েছে ক্যালোরি যা আমাদের শরীরে শক্তির যোগান দিয়ে থাকে। তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করতে নিয়মিত আনারস খেতে পারেন। 

ক্যান্সার প্রতিরোধ করে

বর্তমানে অনেকেই ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে তাই ক্যান্সার প্রতিরোধ করার জন্য আনারস খেতে পারেন আনারসের মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিকর উপাদান যেমন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন সি যা ক্যান্সার প্রতিরোধে ভালো কাজ করে থাকে। 

কৃমিনাশক হিসেবে কাজ করে

যারা কৃমির সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য আনারস অনেক উপকারী। যদি কয়েকদিন নিয়ম মেনে আনারস হতে পারেন তাহলে কৃমি দূর হয়ে যাবে। তাই কৃমি প্রতিরোধ করতে সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে আনারস খাবেন। 

চোখের জন্য উপকারী

বিভিন্ন কারণে আমাদের চোখ কম বয়সে নষ্ট হয়ে যেতে থাকে। তাই অবশ্যই আপনার উচিত চোখ ভালো রাখার জন্য পুষ্টিকর খাবার খাওয়া। তেমনি চোখ ভালো রাখার জন্য আনারস অনেক উপকারী এর মধ্যে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন। নিয়মিত আনারস খেলে চোখ ভালো থাকবে ইনশাআল্লাহ। 

হৃদরোগ প্রতিরোধ করে

বর্তমানে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে অনেকেই দুনিয়া থেকে চলে যাচ্ছেন তাই এই হৃদরোগ প্রতিরোধ করার জন্য অবশ্যই আমাদের সচেতন থাকতে হবে। যদি হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে চান তাহলে খাবার তালিকায় আনারস রাখতে পারেন এবং প্রতিদিন অল্প পরিমাণ করে আনারস পেতে পারেন ইনশাআল্লাহ হৃদরোগ থেকে মুক্ত থাকবেন। 

আনারস খাওয়ার নিয়ম

আনারস থেকে ভালো উপকারিতা পাওয়ার জন্য ভালো মানের আনারস বাছাই করতে হবে এবং আনারস খাওয়ার নিয়ম অনুযায়ী খেতে হবে। আমাদের বাসার আশেপাশে যেগুলো এগুলো থেকে সবচেয়ে বেশি উপকারিতা পাওয়া যায়। জেনে রাখুন আনারস খাওয়ার নিয়ম গুলো।

আনারস খাওয়ার নিয়ম
আনারস খাওয়ার নিয়ম হলো সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পরে খালি পেটে খেতে পারেন। তবে খালি পেটে খাওয়ার চেয়ে সকালের নাস্তা করার 30 মিনিট পরে আনারস খেলে ভালো হয়। কারণ অনেকের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে সেজন্য খালি পেটে আনারস গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। কথায় রয়েছে খালি পেটে জল ভরা পেটে ফল। তবে আপনার যদি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা না থাকে তাহলে সকাল বেলা খালি পেটে আনারস এবং পানি খেতে পারেন এতে করে ভালো উপকারিতা পাবেন। 

আনারসের পুষ্টিগুণ

আনারস অনেক পুষ্টিগুণে ভরা এর মধ্যে যেগুলো পুষ্টি রয়েছে তা আমাদের শরীরের জন্য অনেক উপকারী। আনারসের মধ্যে যেগুলো পুষ্টিগুণ রয়েছে সেগুলো হলোঃ 

  • ভিটামিন এ
  • ভিটামিন সি 
  • ক্যালসিয়াম
  • পটাশিয়াম 
  • ফসফরাস 
  • ফাইবার
  • ম্যাঙ্গানিজ
  • ব্রোমেলিন
  • আশ

এই সকল পুষ্টিগুন আনারসের মধ্যে রয়েছে সেজন্য এই সকল পুষ্টিগুন পেতে আনারস খেতে পারেন।

খালি পেটে আনারস খাওয়ার উপকারিতা 

আনারসের অনেক উপকারিতা রয়েছে তবে আপনি যদি খালি পেটে আনারস হন তাহলে সেটা আরো বেশি উপকারী হয় খালি পেটে আনারস খেলে এটা হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং যাদের কৃমি রোগ রয়েছে তাদের কৃমি প্রতিরোধ করে। এছাড়াও খালি পেটে আনারস খাওয়ার আরো উপকারিতা হলো বিভিন্ন রোগ মুক্ত রাখে। 

আরো পড়ুনঃ কাতিলা গাম এর ১০ টি উপকারিতা - কাতিলা গাম খাওয়ার নিয়ম

যাদের ওজন অনেক বেশি তারা খালি পেটে আনারস খেতে পারেন এতে করে ওজন অনেকটা কমবে। তবে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তারা খালি পেটে আনারস খাবেন না। এছাড়াও আপনার যদি অন্য কোন রোগ থাকে তাহলে খালি পেটে আনারস খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। 

রাতে আনারস খেলে কি হয়

আনারস সকাল বেলা খাওয়া ভালো। কিন্তু অনেকে জানতে চেয়ে থাকেন রাতে আনারস খেলে কি হয়। আসলে যে জিনিসের উপকারিতা রয়েছে সে জিনিসের যদি আপনি সঠিক ব্যবহার না করতে পারেন তাহলে সে জিনিস আপনার ক্ষতি করবে। 

তেমনি আপনি যদি রাতের বেলা আনারস খান তাহলে এটা গ্যাস্টিকের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে এবং পেট ফাঁপার কারণ হতে পারে। এছাড়াও রাতে আনারস খেলে বদনাম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই অবশ্যই রাতের বেলা আনারস খাওয়া থেকে বিরত থাকবেন। 

আনারস খাওয়ার সঠিক সময়

ইতিমধ্যে আপনাদের জানিয়ে দিয়েছি আনারস খাওয়ার নিয়ম আশা করছি সেখান থেকে আপনারা জানতে পেরেছেন আনারস খাওয়ার সঠিক সময় কখন। আনারস খাওয়ার সঠিক সময় হল সকালবেলা ঘুম থেকে উঠার পরে খালি পেটে খেতে হবে। যদি সকালবেলা খান তাহলে ভালো উপকারিতা পাবেন। তাই আনারস থেকে ভালো উপকারিতা পাওয়ার জন্য সকাল বেলা খাবেন তাছাড়া কখনো রাতে আনারস খাবেন না। 

আনারস খেলে কি গ্যাস হয়

হ্যাঁ যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তারা আনারস খেলে গ্যাস হতে পারে তবে। বিশেষ করে সকাল বেলা খালি পেটে আনারস খেলে যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বৃদ্ধি পেতে পারে। 

আবার যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে তারা যদি অতিরিক্ত পরিমাণ আনারস খেয়ে ফেলে তাহলে গ্যাসের সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া রাতে আনারস খেলে গ্যাস হতে পারে তাই যাদের একটু বেশি গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে তারা আনারস কম খাওয়ার চেষ্টা করবেন। এছাড়াও খেতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাবেন। 

আনারস খেলে কি পিরিয়ড হয়

অনেক মেয়েদের ঠিক মত পিরিয়ড হতে চাই না সেজন্য অনেক চিন্তার মধ্যে পড়ে থাকেন কিন্তু আপনার যদি পিরিয়ডের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আপনি আনারস খেতে পারেন। নিয়মিত আনারস খেলে পিরিয়ডের সমস্যা দূর হয়ে যায় এবং ঠিকমতো পিরিয়ড হয়। 

আরো পড়ুনঃ শসা খাওয়ার ১৫ টি উপকারিতা - শসা খাওয়ার অপকারিতা

এছাড়াও আনারসের সাথে লাল চা চিটাগুড় অথবা মুড়ি মিশিয়ে খেতে পারেন তাহলে এটা পিরিয়ড তাড়াতাড়ি এবং নিয়মিত করবে। এই বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। 

আনারসের অপকারিতা 

আনারসের ১২ টি উপকারিতা ও অপকারিতা এবং আনারস খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে তো জানতে পেরেছেন কিন্তু আনারসের এত উপকারিতা থাকার পরেও রয়েছে কিছু অপকারিতা। যদি আপনি নিয়ম না মেনে আনারস খান তাহলে আনারস ক্ষতি করবে। আনারসের অপকারিতা গুলো হলোঃ 

  • যাদের ডায়াবেটিস হয়েছে তারা আনারস খেলে তাদের শরীরে চিনির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে এবং ডায়াবেটিস বেশি হয়ে যেতে পারে।
  • যাদের এলার্জির সমস্যা রয়েছে তারা আনারস খেলে শরীরে এলার্জি বৃদ্ধি পেতে পারে এতে করে শরীরে ফুসকুড়ি এবং চুলকানি হতে পারে।
  • যদি কারো গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকে তাহলে বেশি আনারস খাওয়া যাবে না এতে করে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।
  • গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়া অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ এতে করে গর্ভপাত হতে পারে তাই গর্ভাবস্থায় কখনোই আনারস খাবেন না যদি তারপরও যদি খেতে চান তাহলে অবশ্যই আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন। 
  • রাতে আনারস খাবেন রাতে এটা আপনার পেটের বিভিন্ন রকম ক্ষতি করবে।
আনারস এই সকল ক্ষতি করে থাকে তাই আপনাদের যাদের এরকম সমস্যার সম্ভাবনা রয়েছে তারা আনারস খাবেন না। আর অনেকেই বলে থাকেন আনারস এবং দুধ একসাথে খেলে ক্ষতি হতে পারে আসলে এটা মানুষের একটি ভুল ধারণা। আজ পর্যন্ত এমন কোন ঘটনা দেখা যায়নি যে আনারস এবং দুধের একসাথে ক্ষতিকারক রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটেছে। 

আমাদের শেষ কথা 

আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি পড়ার পরে আপনারা জানতে পেরেছেন আনারসের ১২ টি উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। এছাড়াও আনারস খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে আপনাদের জানিয়েছি তাই সেই নিয়ম মেনে খাওয়ার চেষ্টা করবেন। 

এবং এই বিষয়ে যদি আপনাদের আরো কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। এরকম আরও বিষয়ে জানতে আমাদের JONOPRIYO BLOG ওয়েবসাইট নিয়মিত ফলো করতে পারেন ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন