মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা

বর্তমানে প্রায় সবার কাছেই মোবাইল ফোন রয়েছে কিন্তু আপনি কি জানেন? মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে যদি না জেনে থাকেন তাহলে আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে জেনে নিতে পারবেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো সম্পর্কে।
মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা

মোবাইল ফোন যেমন আমাদের বিভিন্ন উপকারে আসে আবার তেমনি বিভিন্ন রকম ক্ষতি করে থাকে তাই অবশ্যই আপনাদের জানা প্রয়োজন মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো। তাহলে আপনারা এর সঠিক ব্যবহার করতে পারবেন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা

মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা

মোবাইল ফোনের বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে যেমন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে খুব সহজেই দূরদূরান্তের মানুষের সাথে যোগাযোগ করা যায়, বিভিন্ন শিক্ষামূলক কাজের জন্য মোবাইলের উপকারিতা রয়েছে, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা ইনকাম করা যায়। 

মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন নিউজ দেখা যায়, হিসাব নিকাশ করার জন্য মোবাইল উপকারী, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিনোদন নেওয়া যায়, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে টাকা লেনদেন এবং অনলাইন কেনাকাটা করা যায়, মোবাইল ফোনের আরেকটি উপকারিতা হলো রাতের বেলা অন্ধকার রাস্তায় মোবাইলের লাইট ব্যবহার করা যায়। 

আরো পড়ুন: এই নাম্বারটা কোথায় আছে - মোবাইল নাম্বার লোকেশন

এ ছাড়াও মোবাইলের আরো অনেক উপকারিতা রয়েছে যা আপনারা নিচের অংশে আরো জানতে পারবেন। তবে এত উপকারিতা থাকার পরেও মোবাইল ফোনের রয়েছে কিছু অপকারিতা মোবাইল ফোনের অপকারিতা গুলো হলো: সময় অপচয় হয়, চোখের ক্ষতি করে, অনেক অর্থ অপচয় হয়, অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারে পুরুষদের শুক্রানুর পরিমাণ কমে যায়, কানের সমস্যা হয়ে থাকে, পড়াশোনার ক্ষতি হয়, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার করার কারণে মাথাব্যথা হয়ে থাকে। 

এছাড়াও মোবাইল ফোনের আরো একটি বড় অপকারিতা হলো অনেক সময় মোবাইল ফোনের কারণে নিজের পার্সোনাল কোন ঝুঁকি থাকতে পারে, ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, হার্টের সমস্যা এবং ব্রেন ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আশা করছি মোবাইলের উপকারিতা এবং অপকারিতা গুলো জানতে পারলেন।নিচে এই বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে পারবেন। 

মোবাইল ফোনের উপকারিতা বিতর্ক প্রতিযোগিতা

আমাদের মানব জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারিতা এবং অপকারিতা দুটোই রয়েছে। মোবাইল ফোনের উপকারিতা বিতর্ক প্রতিযোগিতা এই বিষয় জানতে চেয়েও অনেকে ইন্টারনেটে সার্চ করে থাকেন। আসলে আপনি যদি মোবাইল ফোন ভালো কাজে ব্যবহার করতে পারেন তাহলে এটা আপনার জন্য অবশ্যই উপকার হবে। 

কিন্তু আমরা অনেকেই এটা সঠিক ব্যবহার না করে খারাপ ব্যবহার করে থাকি সেজন্য এটা আমাদের জন্য উপকারী না হয়ে অপকারী হয়ে থাকে।মোবাইল ফোনের উপকারিতা বিতর্ক প্রতিযোগিতায় দেখা যায় মোবাইল ফোন আমাদের বিভিন্ন রকম প্রযুক্তির সাথে যুক্ত রয়েছে যা আমাদের মানব জীবনে অনেক বড় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। 

মোবাইল ফোনের উপকারিতা বিতর্ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিভিন্ন রকম উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়ে থাকে। তবে মনে রাখবেন সব জিনিসের উপকারিতা এবং অপকারিতা রয়েছে তাই আপনি কোনটা বেছে নিবেন সেটা একমাত্র আপনি ভালো জানবেন। 

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারিতা

বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় সবারই কাছে মোবাইল ফোন থাকে বিশেষ করে যারা মাধ্যমিক স্কুল এবং কলেজে লেখাপড়া করে তাদের প্রায় সবার কাছেই মোবাইল রয়েছে। ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারিতা অনেকগুলোই রয়েছে সেগুলো কি কি জেনে রাখুন। 

  • অনলাইন  কোর্স করা যায় 
  • অনলাইন ক্লাস করা যায় 
  • বন্ধুদের সাথে কানেক্ট থাকা যায়
  • চাকরির খবর পাওয়া যায় 
  • অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায় 
  • অনলাইনে পেমেন্ট করা যায় 
  • শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করা যায়

অনলাইন  কোর্স করা যায় 

বর্তমানে শিক্ষার্থীদের অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা কোর্স করানো হয়ে থাকে। আর এই সকল অনলাইন কোর্স শিক্ষার্থীরা খুব সহজে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরে বসে করতে পারে। এতে করে খুব সহজে বিভিন্ন রকম শিক্ষা কোর্স করার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করতে পারে। 

অনলাইন ক্লাস করা যায় 

বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হয়ে থাকে। এখন অনেকে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কোচিং করিয়ে থাকেন আর এটা যেহেতু অনলাইনের মাধ্যমে তাই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে শিক্ষার্থীরা যোগ দিয়ে থাকে তাই খুব সহজেই মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ZOOM অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইন ক্লাস নেওয়া যায় এবং করা যায়। 

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের উপকারিতা

বন্ধুদের সাথে কানেক্ট থাকা যায়

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের আরো একটি উপকারিতা হলো। খুব সহজেই বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ করা যায় এবং কানেক্ট থাকা যায় এতে করে লেখাপড়া বিষয়ক বিভিন্ন রকম সাহায্য সহযোগিতা বন্ধুদের থেকে খুব সহজেই নেওয়া যায়। সেজন্য ছাত্র জীবনে এইদিক দিয়েও মোবাইল ফোনের অনেক উপকারিতা রয়েছে। 

চাকরির খবর পাওয়া যায় 

অনেকেই ছাত্র জীবনে বিভিন্ন রকম চাকরির খোঁজ করে থাকেন কিন্তু আপনার কাছে যদি মোবাইল ফোন না থাকে তাহলে আপনি খুব সহজে বিভিন্ন রকম চাকরির খবর পাবেন না কারণ বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন রকম চাকরির খবর পাওয়া যায় তাই ছাত্র জীবনের যদি একটি মোবাইল ফোন থাকে তাহলে এটা আপনাকে চাকরির খবর দেখা বা পাওয়ার জন্য অনেক বেশি সাহায্য করবে। 

আরো পড়ুন: মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্তির উপায় - মোবাইল আসক্তির কুফল

অনলাইন থেকে ইনকাম করা যায় 

আপনি যদি ছাত্র জীবনে অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে চান তাহলে মোবাইল আপনার জন্য অনেক উপকারী একটি ডিভাইস হতে পারে। অর্থাৎ আপনি চাইলে লেখাপড়ার পাশাপাশি অনলাইনে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন রকম কাজ করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

অনলাইনে পেমেন্ট করা যায় 

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের আরো একটি উপকারিতা হলো স্কুল কলেজে অনেক সময় বিভিন্ন প্রয়োজনে পেমেন্ট করার প্রয়োজন হয়। তাই আপনার কাছে যদি একটি মোবাইল ফোন থাকে তাহলে আপনি খুব সহজেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংকিং একাউন্ট রয়েছে সেগুলো থেকে খুব সহজেই স্কুল কলেজের সেই পেমেন্ট গুলো করে দিতে পারবেন। 

শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করা যায়

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের আরো একটি উপকারিতা হলো খুব সহজে শিক্ষকদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে যোগাযোগ করা যায়। মনে করেন আপনি আপনার পড়া বিষয়ে কোনো বিষয়ে বুঝতে পারছেন না তাহলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ করে আপনার সেই সমস্যার সমাধান করে নিতে পারবেন। নিয়মিত মোবাইল ফোনের মাধ্যমে শিক্ষকদের সাথে যোগাযোগ রাখলে সম্পর্ক আরো ভালো হবে। যা আপনার শিক্ষা জীবনে ভালো একটা প্রভাব ফেলবে। 

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা

ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের যেমন উপকারিতা রয়েছে তেমনি রয়েছে কিছু অপকারিতা। আপনি যদি মোবাইলের সঠিক ব্যবহার না করে থাকেন তাহলে এটা আপনার ছাত্র জীবন নষ্ট করে দিতে পারে তাই জেনে রাখুন ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা এবং সতর্ক হওয়ার চেষ্টা করুন। ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের অপকারিতা গুলো হলোঃ 

১। ছাত্র জীবন মানে এটা পড়ার বয়স বা পড়ার সময় কিন্তু অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে সময় নষ্ট হচ্ছে এবং এতে করে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে যা ছাত্র জীবনে অনেক ক্ষতিকর। 

২। একজন শিক্ষার্থীর লেখাপড়া করার জন্য স্মৃতি শক্তি ভালো থাকা প্রয়োজন তবে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে এটা মস্তিষ্কের ক্ষতি করে এবং এতে করে স্মৃতিশক্তি কমে যায়। আর স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়ার ফলে কোন পড়া মনে থাকে না। 

৩। অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে মাথাব্যথা বা মাথা যন্ত্রণা হয়ে থাকে। যখন মাথা যন্ত্রণা এবং মাথা ব্যথা করবে তখন লেখাপড়া করতে মন বসবে না এতে করে লেখাপড়ার ক্ষতি হবে এবং পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট আসবেনা। 

৪। ছাত্র জীবনে সঠিকভাবে লেখাপড়া করার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানো অনেক প্রয়োজন। কিন্তু অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুম হয় না। এতে করে এটা একজন ছাত্রের ওপর অনেক খারাপ প্রভাব ফেলে। 

৫। ছাত্র জীবনে মোবাইল ফোনের আরও একটি বড় ক্ষতিকর দিক হলো। যখন একজন ছেলে বা মেয়ের লেখাপড়ার বয়স তখন তার হাতে মোবাইল থাকার কারণে অনলাইনের মাধ্যমে প্রেমে এবং পর্ণ*গ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ে এতে করে লেখাপড়ার অনেক ক্ষতি হয় এবং মানসিক ও শারীরিকভাবে বিভিন্ন রকম ক্ষতি হয়ে থাকে। 

মোবাইল ফোনের ভালো দিক

মোবাইল ফোনের ভালো দিক গুলো ইতোমধ্যে আপনাদের দিছি তারপরেও এই অংশের সবগুলো একসাথে ছোট ছোট করে জেনে নিন। মোবাইল ফোনের অনেক ভালো দিক রয়েছে সেগুলো হলোঃ 

  • খুব সহজে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করা যায়। 
  • শিক্ষামূলক কাজে ব্যবহার করা যায় 
  • ছবি তোলা যায় ভিডিও করা যায় 
  • অনলাইন ইনকাম করা যায় 
  • বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রাখা যায় 
  • হিসাব নিকাশ করা যায় 
  • অন্ধকারে লাইট ব্যবহার করে যেকোনো জায়গায় যাওয়া যায়
  • অনলাইন শপিং করা যায় 
  • অনলাইন কোর্স করা যায় 
  • অনলাইন ক্লাস করা যায় 
  • মোবাইল ব্যাংকিং এর মাধ্যমে টাকা লেনদেন করা যায় 
  • বিভিন্ন রকম খবর পাওয়া যায় 
  • চাকরির খবর পাওয়া যায় 
  • ব্যবসা বাণিজ্যের জন্য কাজে লাগে
  • কৃষি বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য জানা যায় 
  • শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় ভালো ভূমিকা রাখে

দিনে কত ঘন্টা মোবাইল চালানো উচিত

মোবাইল ফোন আমাদের ক্ষতি করে থাকে সেজন্য অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট সময়ের বেশি মোবাইল ব্যবহার করা উচিত নয়। বর্তমানে আমাদের বেশিরভাগ মানুষেরই মোবাইল ফোনে তেমন কোন কাজ থাকেনা শুধুমাত্র ফেসবুক ইউটিউব ব্যবহার করা বাদে। 

যদি এমনটি হয় আপনার যে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আপনার তেমন কোন কাজ নাই তাহলে শুধুমাত্র ফেসবুক ইউটিউব চালানোর জন্য অধিক সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার না করাই ভালো। একটি গবেষণায় দেখা গেছে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন ২ থেকে ৩ ঘন্টার বেশি মোবাইল ফোন চালানো উচিত নয়। 

আরো পড়ুন: টাকা ইনকাম করার সহজ ৯ টি উপায় বাংলাদেশে - ফ্রি টাকা ইনকাম

কারণ আমাদের বেশিরভাগ মানুষের মোবাইল ফোনে তেমন একটা কাজ থাকেনা। যদি মোবাইল ফোনে জরুরি কোন কাজ না থাকে তাহলে প্রতিদিন ২ ঘন্টার কম মোবাইল ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।তাহলে মোবাইল আপনার তেমন কোন ক্ষতি করবেনা। 

মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা: শেষ কথা

আশা করছি আজকের আর্টিকেলটি পড়ার পরে আপনারা বিস্তারিত ভাবে জানতে পেরেছেন মোবাইল ফোনের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে। তো মোবাইল ফোনের এই সকল উপকারিতা এবং অপকারিতা আমাদের জীবনে ভালো এবং খারাপ দুটি করে থাকে তাই অবশ্যই আপনারা খারাপ দিকগুলো এড়িয়ে চলবেন যাতে করে মানব জীবনে এর কোন ক্ষতিকর প্রভাব না পড়ে। 

আর এই বিষয়ে যদি আপনাদের আরো কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন এবং এরকম আরও বিভিন্ন বিষয়ে জানতে নিয়মিত আমাদের JONOPRIYO BLOG ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন