এইডস এর লক্ষণ ও কারণ - এইডস হলে করণীয়

এইচআইভি ভাইরাসের আক্রমণের কারণে এইডস হয়ে থাকে কিন্তু আপনি কি জানেন এইডস এর লক্ষণ ও কারণ এবং এইডস হলে করণীয় যদি না জানেন তাহলে আজকের আর্টিকেল থেকে জেনে নিতে পারেন। এইডস এর লক্ষণ ও কারণ অনেকগুলো রয়েছে সেগুলো আপনাদের বিস্তারিত ভাবে জানাবো। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক এইডস এর লক্ষণ ও কারণ সহ এই সম্পর্কিত আরো কিছু বিষয়ে।
এইডস এর লক্ষণ ও কারণ

এইডস কিভাবে হয় এইডস এর লক্ষণ ও কারণ এইডস হলে করণীয় এইডস এর ঔষধ এর নাম এইগুলো আপনারা আজকের আর্টিকেলে জানতে পারবেন সেজন্য পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলুন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ এইডস এর লক্ষণ ও কারণ - এইডস হলে করণীয় 

এইডস কিভাবে হয়

এইডস এ আক্রান্ত  কোনো নারী পুরুষের সাথে যদি কনডম ব্যবহার না করে সহবাস করা হয় তাহলে এখান থেকে একজন ব্যক্তি এইডস এ আক্রান্ত হয়ে থাকে। অথবা কোন এইডস এ আক্রান্ত ব্যক্তির থেকে যদি রক্ত নেয়া হয় এবং সে রক্ত অন্য কাউকে দেওয়া হয় তাহলে সেই ব্যক্তির এইডস হয়ে থাকে।

অথবা এইডস আক্রান্ত রোগীকে যে ইনজেকশন সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে সেটা যদি অন্য কোন ব্যক্তিকে ইনজেকশন দেওয়ার সময় ব্যবহার করা হয় তাহলে সেই ব্যক্তির জীবাণু থেকে এইডস হয়ে থাকে। 

আরো পড়ুনঃ ডেঙ্গু জ্বর হলে করণীয় - ডেঙ্গু জ্বর হলে কি খেতে হবে 

এভাবে মূলত এইডস হয়ে থাকে তবে বর্তমানে অনেক মানুষ সতর্ক হওয়ার ফলে এগুলো কারণে এইডস হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে গেছে। এবং রক্ত দেওয়ার আগে সেটা ভালোভাবে পরীক্ষা করা হয় এখন সেজন্য রক্তের মাধ্যমে এইডস হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কমে গেছে। 

এইডস এর লক্ষণ ও কারণ - এইডস রোগের লক্ষণ 

এইডস অনেক মারাত্মক একটি ব্যাধি এইডস এর লক্ষণ ও কারণ কিছু রয়েছে যেগুলো দেখা দিলে আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনার এইডস হয়েছে। এইডস হওয়ার কারণ মূলত অনিরাপদ যৌন মিলন এছাড়াও আরো কিছু কারণ রয়েছে যেগুলো উপরের অংশে বলা হয়েছে। এইডস এর লক্ষণ ও কারণ কিছু রয়েছে সেগুলো সম্পর্কে জেনে রাখুন। অর্থাৎ এইডস রোগ হলে যে সকল লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো হলো। 

এইডস রোগের লক্ষণ গুলো হলো মাথা ব্যথা করা, জ্বর হওয়া, বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া, শরীর প্রচন্ড ক্লান্ত হয়ে যাওয়া, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় লালচে ফুসকুড়ি বের হওয়া, মাথা ব্যথা করা, শরীরের বিভিন্ন জায়গায় যন্ত্রণা করা, শুকনো কাশি এবং গলা ব্যথা, পেশি ব্যথা করা, লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট হওয়া ইত্যাদি। 

আরো পড়ুনঃ নাকের পলিপাসের ঘরোয়া চিকিৎসা -  নাকের পলিপাস এর ড্রপ

কারো যদি এইডস হয়ে থাকে তাহলে এই সকল লক্ষণ দেখা দিয়ে থাকে। আর এই লক্ষণ গুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন এবং চিকিৎসা গ্রহণ করা প্রয়োজন। আশা করছি এইডস এর লক্ষণ ও কারণ সম্পর্কে জানতে পারলেন। 

এইডস কত দিন পর ধরা পড়ে - এইডস রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় কত মাসে

এইডস কত দিন পর ধরা পড়ে এটা অনেকেই জানতে চান কারো যদি এইডস হয়ে থাকে তাহলে তিন মাস পরে লক্ষণ কিছুটা দেখা দেয়। আর আপনি যদি আরো ভালোভাবে রিপোর্ট পেতে চান তাহলে ৬ মাস পরে টেস্ট করালে আরো ভালোভাবে জানতে পারবেন যে আপনি এইডস আক্রান্ত কিনা। 

এক কথায় বলা যায় এইডস রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে। আর আপনার যদি মনে হয় আপনি এইডসে আক্রান্ত তাহলে সেটা দ্রুত পরীক্ষা করা ভালো এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করলে এইডস ভালো করা সম্ভব। 

ঘরে বসে এইডস পরিক্ষা  

অনিরাপদ যৌন মিলনের কারণে এইডস হয়ে থাকে। এইডস হলে অনেক সময় তা পরীক্ষা করার প্রয়োজন পড়ে কিন্তু সবসময় ডাক্তারের কাছে যাওয়া অনেকের পক্ষে সম্ভব হয় না। সেজন্য আপনি চাইলে ঘরে বসে এইডস পরীক্ষা করতে পারবেন। ঘরে বসে পরীক্ষা করার জন্য একটা এইডস পরীক্ষা করার কিট পাওয়া যায় যেটার মাধ্যমে আপনি ঘরে বসে এইডস পরীক্ষা করতে পারবেন। 

এই কিটের মাধ্যমে এইডস পরীক্ষা যেভাবে করবেন কিটের মধ্যে একটা অংশ রয়েছে যেখানে আপনাকে আপনার মুখ থেকে লালা অর্থাৎ থুতু দিতে হবে আর তারপরে আপনি এইডস এর ফলাফল পেয়ে যাবেন। এছাড়াও আপনি চাইলে রক্তের মাধ্যমেও এইডস পরীক্ষা করতে পারবেন ঘরে বসে। 

আরো পড়ুনঃ প্রোস্টেট কেন বড় হয় - প্রোস্টেট বড় হওয়ার লক্ষণ

একটা নিরাপদ শুছ নিয়ে হালকা পরিমাণ রক্ত বের করুন এবং সেটা টেস্টিং কিটের মধ্যে দিন তাহলে সেখান থেকে এইডসের ফলাফল চলে আসবে। এভাবেই আপনি ঘরে বসে এইডস টেস্টিং কিট এর মাধ্যমে এইডস পরীক্ষা করতে পারবেন। এছাড়াও নিচে আপনাদের এইডস হলে করণীয় এ বিষয়ে জানাবো সেজন্য নিচের অংশগুলো পড়ুন। 

এইডস হলে করণীয় 

কারো যদি এইডস হয়ে থাকে তাহলে সেটা বাড়িতে বসে ভালো করা যায় চিকিৎসার মাধ্যমে। অর্থাৎ আপনার যদি এইডস হয় তাহলে আপনি প্রথমে এইডস পরীক্ষা করাবেন এবং পরীক্ষা করানোর পরে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ঔষধ খাবেন তাহলে ইনশাআল্লাহ এইডস ভালো হয়ে যাবে। 

এইডস হলে সচরাচর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না তবে এইডসের পাশাপাশি যদি কারো অন্য কোন জটিলতা থেকে থাকে তাহলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া প্রয়োজন। এইডস হলে বড়দের মুখে খাওয়ার ওষুধ দেওয়া হয় এবং ছোটদের সিরাপ দেওয়া হয় এগুলো যদি আপনি নিয়ম মেনে খান তাহলে এইডস ভালো হয়ে যাবে। আশা করছি জানতে পারলেন এইডস হলে করণীয় কি এই বিষয়ে। 

এইডস এর প্রতিরোধ

এইডস হলে করণীয় এবং এইডস এর লক্ষণ ও কারণ সম্পর্কে আপনার ইতোমধ্যে জানতে পেরেছেন। কিন্তু এইডস এর প্রতিরোধ করতে কি কি করা প্রয়োজন বা মেনে চলা প্রয়োজন সেগুলো এখনো জানা হয়নি। এইডস প্রতিরোধ করার জন্য কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে জেনে রাখুন সেগুলো কি। 

  • এইডস এ আক্রান্ত নারী বা পুরুষের সাথে যৌন মিলন করা থেকে বিরত থাকুন। 
  • নিরাপদ যৌন মিলন করুন।
  • জীবাণুমুক্ত ইনজেকশন সিরিঞ্জ ব্যবহার করুন
  • একাধিক ব্যক্তির সাথে যৌন সম্পর্ক থেকে দূরে থাকুন 
  • রক্ত দেওয়া বা নেওয়ার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করুন
  • যৌন মিলন করার সময় কনডম ব্যবহার করুন
  • ধর্মীয় পন্থায় জীবন যাপন করুন

এইডস এর ঔষধ - এইডস এর ঔষধ এর নাম

আপনার হয়তো জেনে থাকবেন এইচআইভি এইডস একটি মরণব্যাধি রোগ। আপনার যদি এইডস রোগ হয়ে থাকে তাহলে সেটা আগে পরীক্ষা করতে হবে এবং পরীক্ষা করার পরে যে ধরনের ঔষধ আপনার জন্য প্রয়োজন সেটা খেতে হবে। আর আপনি যদি এইডস এর ঔষধ সম্পর্কে বা এইডস হলে কোন ওষুধ খেতে হবে এটি যদি জানতে চান তাহলে একজন ভালো চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন এবং সেখান থেকে জেনে নিন  এইডস এর ঔষধ এর নাম।  এইডস এর ঔষধ তেমন একটা নেই তারপরেও ডাক্তারের থেকে জেনে নিতে পারেন আর এখানে আপনাদেরকে ওষুধের নাম বলা হলো না কারণ পরীক্ষা করা ছাড়া বলা যাবেনা কোন ঔষধ আপনাকে খেতে হবে। 

এইডস এর লক্ষণ ও কারণ - এইডস হলে করণীয়: শেষ কথা 

বন্ধুরা আশা করছি আপনারা আজকের আর্টিকেল থেকে এইডস এর লক্ষণ ও কারণ এইডস হলে করণীয় কি এই সকল বিষয়ে বিস্তারিত ভাবে জানতে পেরেছেন। তারপরও যদি আপনাদের এ বিষয়ে আরো কোন কিছু জানা থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। এবং এরকম আরো তথ্যমূলক আর্টিকেল নিয়মিত পড়তে আমাদের JONOPRIYO BLOG ওয়েবসাইট ফলো করুন। এতক্ষণ আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন