১০ টি সাইবার অপরাধের নাম - সাইবার অপরাধ গুলো কি কি

প্রতিনিয়ত অনেক মানুষ সাইবার ক্রাইম করে যাচ্ছে এবং অনেকে সাইবার ক্রাইমের স্বীকার হচ্ছে আজকে আপনাদের জানাবো ১০ টি সাইবার অপরাধের নাম এবং সাইবার অপরাধ গুলো কি কি? এবং সাইবার অপরাধের শাস্তি কি হতে পারে এ সকল বিষয়ে জানতে পারবেন।
১০ টি সাইবার অপরাধের নাম

তাই আপনি যদি জানতে চেয়ে থাকেন ১০ টি সাইবার অপরাধের নাম সাইবার অপরাধ গুলো কি কি? সাইবার অপরাধের শাস্তি কি? সাইবার ক্রাইম অভিযোগ করার উপায় সহ এই সম্পর্কিত আরো বেশ কিছু বিষয় তাহলে নিচের অংশগুলো মনোযোগ সহকারে পড়ুন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ ১০ টি সাইবার অপরাধের নাম - সাইবার অপরাধ গুলো কি কি 

সাইবার অপরাধের কারণ

আমাদের বাংলাদেশের প্রতিনিয়ত অনেক মানুষ সাইবার অপরাধের স্বীকার হচ্ছে এবং অনেকে প্রতিনিয়ত সাইবার অপরাধ করে যাচ্ছে। বেশিরভাগ সময় দেখা যায় সাইবার অপরাধের মূল কারণ অর্থ উপার্জন করা। 

এছাড়াও অন্যের বিভিন্ন রকম সোশ্যাল একাউন্ট কম্পিউটার মোবাইল এর ক্ষতি করার কারণে সংঘটিত হয়ে থাকে। আবার সাইবার অপরাধের আরেকটি কারণ হলো ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক কোন শত্রুতা থাকা। এগুলো কারণে মূলত প্রতিনিয়ত অনেকে সাইবার অপরাধ করছে। 

১০ টি সাইবার অপরাধের নাম

অনেকগুলো সাইবার অপরাধ রয়েছে যেগুলো প্রতিনিয়ত হয়ে আসছে। অনেকে ইন্টারনেটে সার্চ করে ১০ টি সাইবার অপরাধের নাম জানতে চেয়ে থাকেন তারা এই অংশ থেকে জেনে নিন ১০ টি সাইবার অপরাধের নাম গুলোঃ 

  1. অন্য কারো ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করা এবং সেই ব্যক্তির ক্ষতি করা।
  2. ইমেইলের মাধ্যমে প্রতারণা করা সাইবার অপরাধ।
  3. কোনরকম হুমকি এবং ব্ল্যাক*মেইল করে অর্থ দাবি করা।
  4. ব্যাংক একাউন্ট অথবা ব্যাংক কার্ডের তথ্য চুরি করা। 
  5. বিভিন্ন রকম কপিরাইট আইন অমান্য করা সাইবার অপরাধ।
  6. অবৈধ জিনিসপত্র ক্রয় বিক্রয় করা সাইবার অপরাধ।
  7. অবৈধ জুয়া খেলা এবং এগুলো কাজের সাথে জড়িত থাকা।
  8. কর্পোরেট বা সেলস অফিসের ডাটা চুরি করা সাইবার অপরাধ।
  9. চাইল্ড পর্নো*গ্রাফি সহ এরকম সকল কাজের সাথে জড়িত থাকা।
  10. সাইবার বুলিং করা এটাও সাইবার অপরাধ। 

আরো পড়ুন: এই নাম্বারটা কোথায় আছে - মোবাইল নাম্বার লোকেশন

যারা সাইবার অপরাধ করে তারা এই সকল অপরাধগুলো করে থাকে তবে বিশেষ করে বেশিরভাগ সাইবার অপরাধীরা আপনার ব্যবহৃত কম্পিউটার বা মোবাইল কে টার্গেট করে এবং সেগুলোর মধ্যে ক্ষতিকর ম্যালওয়্যার প্রবেশ করিয়ে দেয় এবং কম্পিউটার এবং মোবাইলের তথ্যগুলো চুরি করে। এবং পরবর্তীতে আক্রমণ করে। 

সাইবার ক্রাইম কত প্রকার - সাইবার অপরাধ গুলো কি কি 

সাইবার ক্রাইম অনেক প্রকারের হয়ে থাকে। এবং প্রতিনিয়ত কিছু অসাধু ব্যক্তিরা এগুলো সাইবার ক্রাইম করে থাকে এতে করে সাধারণ মানুষ অনেক বিপদে পড়ে। সাইবার অপরাধকে অনেক ভাগে ভাগ করা হয়েছে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাইবার অপরাধগুলো হলোঃ 

  • মোবাইল ফোন হ্যাকিং
  • কম্পিউটার হ্যাকিং
  • ব্যাংক একাউন্ট হ্যাকিং
  • ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং
  • নগদ বিকাশ একাউন্ট হ্যাকিং
  • এটিএম বুথ হ্যাক করা
  • যেকোনো ধরনের জু*য়া প্রমোট করা
  • মাদ*কের ব্যবসা করা বা এর সাথে সাহায্য করা
  • নারী নির্যাতন করা
  • চাইল্ড পর্নো*গ্রাফি ছড়ানো
  • সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট হ্যাক করে অর্থ দাবি করা। 

এই সবগুলো সাইবার অপরাধের মধ্যে পড়ে। তাহলে আশা করছি আপনারা জানতে পারলেন সাইবার অপরাধ গুলো কি কি? এই সাইবার অপরাধ গুলোর অনেক শাস্তি রয়েছে তাই আপনারা এগুলো করা থেকে বিরত থাকবেন। 

সাইবার অপরাধের শাস্তি কি

বাংলাদেশের আইনে কেউ যদি সাইবার অপরাধ করে তার জন্য অনেক কঠিন শাস্তি রয়েছে। তাই সাইবার অপরাধ করার আগে একবার হলেও ভেবে নিবেন। আসুন জেনে নেওয়া যাক সাইবার অপরাধের শাস্তি কি হতে পারে। 

১। কোন ব্যক্তি যদি কারো ব্যক্তিগত তথ্য চুরি করার জন্য কম্পিউটারে সাইবার আক্রমণ করে যেমন ইমেইলের মাধ্যমে এবং যেকোনো ধরনের ভাইরাস ছড়ানোর মাধ্যমে যদি এরকম অপরাধ করে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তির সর্বোচ্চ শাস্তি হবে ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন শাস্তি ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা।

২। কোন ব্যক্তি যদি ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অথবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে অশ্লীল কোন কিছু প্রকাশ করে বা সম্প্রচার করে যার দ্বারা মানুষের রাষ্ট্রের এবং সমাজের মানহানি ঘটে তাহলে এর জন্য শাস্তি পেতে হবে সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদণ্ড ও ১ কোটি টাকা জরিমানা। 

আরো পড়ুন: ফেসবুক ওপেন হচ্ছে না কেন - ফেসবুক চালু করতে চাই সরাসরি

৩। কোন ব্যক্তি যদি সরকারি গোপনীয়তা নষ্ট করার জন্য সাইবার অপরাধ করে থাকে তাহলে সেই ব্যক্তিকে অনাধিক ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। অনেক সময় শুধুমাত্র অর্থদণ্ড অথবা উভয় দন্ডেই দণ্ডিত হতে পারেন। 

৪। কোন ব্যক্তি যদি কোন ধরনের ধর্মীয় উস্কানিমূলক তথ্য প্রচার বা প্রকাশ করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে। এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘৃণা শত্রুতা এবং বিদ্বেষ সৃষ্টি করে দেশের সম্প্রদায় ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে তাহলে এর জন্য শাস্তি পেতে হবে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং সেই সাথে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা। 

৫। যদি কোন ব্যক্তি রাষ্ট্রীয় এবং মুক্তিযুদ্ধ, বা বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা, জাতির জনক এর নামে অথবা বিরুদ্ধে কোনরকম খারাপ প্রচারণা ক করে তাহলেও এটা সাইবার অপরাধ আর এজন্য পেতে হবে সর্বনিম্ন ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা। অপরাধ বেশি হলে একসাথে উভয় দন্ডে দণ্ডিত হবেন। 

সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের উপায়

আমরা অনেকেই এবার অপরাধের স্বীকার হই সেজন্য আমাদের অবশ্যই জেনে রাখা ভালো সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের উপায় গুলো সম্পর্কে। সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের অনেকগুলো উপায় রয়েছে সেগুলো কি জেনে রাখুন। 

  • যেগুলো একাউন্ট পাসওয়ার্ড এর মাধ্যমে পরিচালনা করা হয় সেগুলো একাউন্টের পাসওয়ার্ড শক্তিশালী রাখার চেষ্টা করবেন।
  • আপনার ইমেইলের মধ্যে যদি কোন ব্যক্তির লিংক দেয় তাহলে সেটা যাচাই না করে ক্লিক করবেন না।
  • যেকোনো ধরনের অ্যাপ এবং ওয়েবসাইট ভিজিট করার ক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করবেন।
  • আপনার ব্যক্তিগত কোন তথ্য কারো সাথে কখনোই শেয়ার করবেন না।
  • অনেকের অভ্যাস রয়েছে পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করা এটা কখনোই করবেন না।
  • কোন ব্যক্তি যদি আপনার পরিচিত ব্যক্তির নাম করে আপনার কাছ থেকে অর্থ চাই তাহলে আগে যাচাই করে নিবেন সেই ব্যক্তি আসল কিনা। 
  • আপনার ব্যবহার করা ডিভাইস অন্যের হাতে দেওয়ার আগে ভালো করে ভেবে নিবেন সেই ব্যক্তির মাধ্যমে আপনার কোন ক্ষতি হতে পারে কিনা।
  • অনেক ওয়েবসাইটের মধ্যে ঢুকলে পপ-আপ অ্যাড চলে আসে সেগুলো এড এর উপর ক্লিক করা থেকে বিরত থাকবেন।
  • আপনার যদি বিভিন্ন রকম সোশ্যাল একাউন্ট থাকে তাহলে সেগুলোর পাসওয়ার্ড কখনোই একই দিবেন না। 
  • বিভিন্ন রকম ডিভাইস এবং একাউন্টের পাসওয়ার্ড অনেকদিন ধরে ব্যবহার না করে কয়েক মাস পর পর চেঞ্জ করবেন। এছাড়াও নিজে থেকে জেনে নিন সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে কোন পদক্ষেপগুলো নিবেন। 

যদি দেখেন আপনার সাথে অথবা আপনার আশেপাশে কেউ যদি সাইবার অপরাধের স্বীকার হয় তাহলে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করার জন্য সাইবার অফিসে যাবেন অথবা থানায় যাবেন এবং কিভাবে সাইবার অপরাধের স্বীকার হলেন সেগুলো তাদের বিস্তারিতভাবে বলবেন এবং সাধারণ জিডি অথবা মামলা করবেন। 

এছাড়া আপনি যদি সাইবার অপরাধের স্বীকার হন তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে এটা প্রতিরোধ করার জন্য জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নাম্বারে কল করতে পারেন এবং তাদেরকে সমস্ত ঘটনা খুলে বলতে পারেন তাহলে তারা দ্রুত একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। 

সাইবার ক্রাইম অভিযোগ করার উপায়

সাইবার ক্রাইম অভিযোগ করার জন্য আপনি সরাসরি আপনার নিকটস্থ থানায় যেতে পারেন এবং তাদের সাথে কথা বলে তারা আপনাকে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ করার উপায় বলে দিবে। এছাড়া আপনি যদি আপনার পরিচয় গোপন রেখে অনলাইনের মাধ্যমে সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ করতে চান তাহলে Police Cyber Support for Women - PCSW এটা লিখে ফেসবুকে সার্চ করে তাদের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ খুঁজে বের করবেন এবং সেখানে কি ধরনের সাইবার ক্রাইমের স্বীকার হয়েছেন সেগুলো তাদের জানাতে হবে। সাইবার ক্রাইমে অভিযোগ করার জন্য যেগুলো তথ্য দিতে পারেন।

  • আপনার সাথে ঘটে যাওয়া যদি কোন তথ্য যেমন ছবি ভিডিও অথবা অডিও রেকর্ড থাকে তাহলে সেগুলো সংগ্রহ করে দিবেন।
  • এছাড়াও যদি প্রমাণ করার জন্য কোন স্ক্রিনশট দিতে চান তাহলে পুরোপুরি যাতে দেখা যায় এবং ভালোভাবে দেখা যায় খেয়াল রাখবেন।
  • যদি সেই ব্যক্তির কোন নাম্বার বা ইমেইল ঠিকানা থাকে তাহলে সেগুলো দিবেন।

এই সকল তথ্য একসাথে সংগ্রহ করে নিকটস্থ থানায় অথবা PCSW এর ফেসবুক পেজে অভিযোগ করতে পারবেন। অভিযোগ করার পরে আপনার অভিযোগটি তারা খতিয়ে দেখবে তারপরে একটি ব্যবস্থা নিবে। 

সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা 

বাংলাদেশের সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা রয়েছে কোন ব্যক্তি যদি সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা অমান্য করে এবং সাইবার অপরাধ করে তাহলে সেই ব্যক্তিকে সাইবার নীতিমালা অনুযায়ী কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দেওয়া হবে। 

তাই আপনারা সবাই সাইবার নিরাপত্তা নীতিমালা মেনে চলবেন এবং সাইবার অপরাধ করা থেকে বিরত থাকবেন। আর কেউ যদি সাইবার অপরাধের স্বীকার হয় তাহলে দ্রুত আপনার নিকটস্থ থানা অথবা সাইবার ক্রাইমে যোগাযোগ করে অভিযোগ করবেন। 

১০ টি সাইবার অপরাধের নাম - সাইবার অপরাধ গুলো কি কি: শেষ কথা

প্রিয় বন্ধুরা আশা করছি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে পেরেছেন ১০ টি সাইবার অপরাধের নাম সাইবার অপরাধ গুলো কি কি সাইবার অপরাধ প্রতিরোধের উপায় এবং সাইবার ক্রাইম অভিযোগ করার উপায় সহ এই সম্পর্কিত আরো বেশ কিছু তথ্য। তাই আপনারা সবাই এগুলো উপায় অবলম্বন করে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ করতে পারেন। 

এছাড়াও সবসময় সতর্ক থাকবেন তাহলে কোন রকম সাইবার অপরাধের স্বীকার হতে হবে না। এই বিষয়ে যদি আপনাদের কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। এবং এরকম আরো তথ্য পেতে আমাদের JONOPRIYO BLOG ওয়েবসাইট ফলো করে রাখতে পারেন। সবাই ভালো থাকবেন ধন্যবাদ। 

তথ্যসূত্রঃ itknowledgebd.com

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন