শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা সহজ কেন - দই বানানোর রেসিপি

প্রিয় বন্ধুরা আজকে আপনাদের জানাবো শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা সহজ হয় কেন এবং দই বানানোর রেসিপি। অনেকে হয়তো জেনে থাকেন শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা অনেক সহজ হয় কিন্তু শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা সহজ হয় কেন এ বিষয়ে অনেকেরই অজানা। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা সহজ হয় কেন এই বিষয়ে।
শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা সহজ কেন

শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা সহজ হয় কেন দই বানানোর উপকরণ দই বানানোর রেসিপি দই তৈরির আদর্শ তাপমাত্রা কেমন প্রয়োজন হয় এ সকল বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়ে ফেলুন।

পোস্ট সূচিপত্রঃ যে অংশ থেকে পড়তে চান সে অংশের ওপর ক্লিক করুন

শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা সহজ কেন

আপনারা হয়তো অনেকে জেনে থাকবেন দই তৈরি করার জন্য ব্যাকটেরিয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু শীতকালে অনেক ঠান্ডা তাপমাত্রা থাকে সেজন্য ব্যাকটেরিয়া মারা যায়। কিন্তু গরমকালে তাপমাত্রা শীতল থাকে না সেজন্য ব্যাকটেরিয়া মারা যায় না এবং দ্রুত বৃদ্ধি পায়। 

আরো পড়ুন: প্রতিদিন কতটুকু কিসমিস খাওয়া উচিত - কিসমিসের ১৬ টি উপকারিতা

সেজন্য শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা অনেক সহজ হয়ে থাকে এবং অনেক দ্রুত সময়ে শীতকালের থেকে গরমকালে দই তৈরি করা যায়। আশা করছি ক্লিয়ার ভাবে বুঝতে পারছেন শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা সহজ হয় কেন। 

দই বানানোর উপকরণ

আমরা তো প্রায়ই দোকান থেকে দই কিনে খাই কিন্তু সেই দই যদি আপনি বাড়িতে বানাতে পারেন তাহলে নিশ্চয়ই অনেক ভালো হবে। কিন্তু এই দই বানাতে হলে আপনাকে জানতে হবে দই বানানোর রেসিপি এবং দই বানানোর উপকরণ সম্পর্কে। দই বানানোর জন্য বেশ কিছু উপকরণ প্রয়োজন হয় সেগুলো হলোঃ

  • পানি 
  • দুধ
  • মিষ্টি দই 
  • চিনি

দই বানানোর রেসিপি - দুধ থেকে দই তৈরির পদ্ধতি

অনেকের ইচ্ছা জাগে যে বাসায় বসে দই তৈরি করব কিন্তু দই বানানোর রেসিপি বা দুধ থেকে দই তৈরির পদ্ধতি সম্পর্কে জানা নাই। সমস্যা নাই এখন আপনাদের জানাবো বা শিখাবো দুধ থেকে দই তৈরির পদ্ধতি গুলো। তো জেনে নিন দই বানানোর নিয়ম বা পদ্ধতি।

১। প্রথমে একটি পাত্রের মধ্যে হালকা পরিমাণ পানি দিয়ে তার মধ্যে বেশি দই বানালে দুই লিটার দুধ দিবেন আর যদি একটু কম বানাতে চান তাহলে এক লিটার দুধ দিবেন। দেওয়ার পরে সেটা ভালোভাবে জাল করতে হবে এবং জাল করার মাঝে মাঝে নাড়তে হবে যাতে করে স্বর পড়ে না যায়। নাড়তে নাড়তে দুধ যখন গাঢ় হয়ে কমে আসবে তখন চুলা বন্ধ করবেন।

আরো পড়ুন: গাজর খাওয়ার ১০ টি উপকারিতা - গাজরের অপকারিতা

২। তারপর হালকা পরিমাণ চিনি একটি পাত্রের মধ্যে দিয়ে আগুনের তাপে দিয়ে জাল করবেন। জাল করার সময় হালকা করে নাড়তে থাকবেন যাতে করে চিনি গুলোর কালার একটু রঙিন হয় এবং পুড়ে না যায়। কিছুক্ষণ জাল করার পরে নামিয়ে ফেলবেন।

৩। তারপরে হালকা পরিমাণ টক দই বা মিষ্টি দই অর্থাৎ আপনি যেটা দিয়ে তৈরি করতে চান সেটা নিবেন নেওয়ার পরে সেগুলোর মধ্যে যদি রস থাকে তাহলে একটি ছাঁকনির মধ্যে রেখে রসগুলো ভালোভাবে সেঁকে নিবেন। সেকে নেওয়ার পরে সেই দই গুলো ভালোভাবে ফেটিয়ে নিবেন। এবং ফেটিয়ে নেওয়ার সময় হালকা পরিমাণ জাল করা দুধগুলো দিবেন। সবগুলো দিবেন না।

৪। তারপরে দুধগুলো যখন হালকা হালকা গরম থাকবে তখন সেগুলো চিনির রসের মধ্যে দিয়ে দিবেন দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে নিবেন। তারপর দইয়ের পাত্রের মধ্যে দুধগুলো ঢেলে নিবেন নেওয়ার পরে ফেটিয়ে নেওয়া দই গুলো পরিমাণ মতো সকল পাত্রের মধ্যে দিয়ে দিবেন। দিয়ে দেওয়ার পরে দইয়ের পাত্রের মুখগুলো ভালো কিছু দিয়ে ঢেকে উষ্ণ জায়গায় ৫থেকে ৬ ঘন্টা রেখে দিন। তাহলে দই গুলো জমে যাবে এবং তারপরে সেগুলো ফ্রিজে ঢুকিয়ে রাখুন আর এভাবেই সম্পূর্ণভাবে দই তৈরি হয়ে যাবে। 

দই তৈরির আদর্শ তাপমাত্রা 

দই তৈরি করার একটি আদর্শ তাপমাত্রা রয়েছে সেই তাপমাত্রার কম-বেশি হলে ভালোভাবে দই তৈরি নাও হতে পারে। দই তৈরির আদর্শ তাপমাত্রা হলো  37° সেলসিয়াস থেকে 45°  সেলসিয়াস পর্যন্ত। দই তৈরি করার সময় যদি এই তাপমাত্রা থাকে তাহলে সেটাকে বলা হয় দই তৈরীর আদর্শ তাপমাত্রা। গরমকালে যেহেতু তাপমাত্রা বেশি থাকে সেজন্য দই তৈরি করা অনেক বেশি সহজ হয়ে থাকে। কারণ দই তৈরি করার জন্য যে ব্যাকটেরিয়ার প্রয়োজন হয় সেটা শীতকালের তুলনায় গরমকালে বেশি থাকে। 

দই খাওয়ার উপকারিতা

দই একটি মজাদার খাবার সেজন্য দই আমাদের সকলেরই পছন্দ। কিন্তু আপনি কি জানেন দই খাওয়ার উপকারিতা কি হয়তো অনেকেই জানে আবার অনেকেই জানে। দই খাওয়ার অনেক উপকারিতা রয়েছে যদি নিয়মিত দই খান তাহলে অনেক উপকারিতা পাবেন। দই খাওয়ার উপকারিতা গুলো হলো।

হজম শক্তি বৃদ্ধি করেঃ দইয়ের মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য উপকারী ব্যাকটেরিয়া। অনেকেই হয়তো মনে করছেন ব্যাকটেরিয়া তো খারাপ কিন্তু না দইয়ের মধ্যে যে ব্যাকটেরিয়া থাকে সেটা উপকারী। তাই নিয়মিত দই খেলে হজম শক্তি বৃদ্ধি পায়।

হাড় ও দাঁত মজবুত করেঃ দইয়ের মধ্যে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ডি এবং ক্যালসিয়াম তাই নিয়মিত দই খেলে এটা হাড় ও দাঁত মজবুত করতে অনেক বেশি কাজ করে।

উচ্চ রক্তচাপ কমায়ঃ দইয়ের মধ্যে বিভিন্ন রকম পুষ্টিগুণ রয়েছে তার মধ্যে একটি হলো পটাশিয়াম। সেজন্য নিয়মিত যদি দই খাওয়া হয় তাহলে এটা উচ্চ রক্তচাপের মত সমস্যা কমাতে বেশ কার্যকরী।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করেঃ দইয়ের মধ্যে যে উপকারী ব্যাকটেরিয়া রয়েছে সেটা আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে চাইলে নিয়মিত পরিমাণ মতো দই খেতে পারেন।

আরো পড়ুন: কাজুবাদাম এর ১১ টি উপকারিতা - কাজু বাদাম খাওয়ার নিয়ম

ত্বক উজ্জ্বল করেঃ দইয়ের মধ্যে রয়েছে এক ধরনের ল্যাকটিক এসিড যেটা ত্বকের মৃত কোষ দূর করে এবং ত্বক উজ্জ্বল করে। তাই কারো যদি কম বয়সে ত্বকে বয়সের ছাপ পড়ে যায় তাহলে এই দই আপনার বয়সের ছাপ কমিয়ে ত্বক উজ্জ্বল করতে বেশ কাজ করবে।

ওজন কমায়ঃ আমাদের যাদের অনেক বেশি ওজন রয়েছে তাদের জন্য দই হতে পারে অনেক উপকারী একটি খাদ্য উপাদান। কারণ নিয়মিত দই খেলে এটা শরীরের ওজন কমাতে অনেক বেশি উপকারী।

পাকস্থলীর বিভিন্ন সমস্যা দূর করেঃ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রকম খাবার খাওয়ার ফলে আমাদের পাকস্থলীতে বিভিন্ন রকম সমস্যা সৃষ্টি হয় আর এই পাকস্থলীর বিভিন্ন রকম সমস্যা দূরীকরণে দই অনেক উপকারী। যেমন কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দূর করে এই দই।

শরীরের ছত্রাক প্রতিরোধ করেঃ আমাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অনেক সময় ছত্রাকের আক্রমণ হয়ে থাকে। আর এই ছত্রাক প্রতিরোধ করার জন্য দই অনেক বেশি উপকারী। তাই এই সকল উপকারীতা পেতে নিয়মিত পরিমাণ মতো দই খাবেন। তবে শীতকালে দই কম খাওয়াই ভালো কারণ অনেকের ঠান্ডা লেগে বিভিন্ন রকম সমস্যা হতে পারে। 

দই জমতে কত সময় লাগে

শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা সহজ হয় কেন এবং দই বানানোর রেসিপি গুলো কি কি ইতোমধ্যে আপনাদের জানিয়েছি কিন্তু অনেকে প্রশ্ন করে থাকেন দই জমতে কত সময় লাগে? আসলে দই অনেক ভাবে জমানো যাই আপনি যদি সনাতন পদ্ধতি অর্থাৎ দই উষ্ণ কোন জায়গায় ঢেকে রেখে তৈরি করতে চান তাহলে সেই দই জমতে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা সময় লাগে। 

আর সাধারন চুলাতে দিয়ে দই জমাতে চাইলে দেড় থেকে দুই ঘন্টা সময় লাগে। ওভেনে বসিয়ে দই জমাতে চাইলে ৫০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মতো সময় লাগে। তাই আপনি কোন পদ্ধতিতে জমাবেন সেটা আশা করছি এখান থেকে একটি ধারণা পেয়ে গেলেন। 

দই না জমলে কি করতে হবে 

দই যদি না জমে তাহলে দই জমতে দেওয়ার জন্য পাত্রে ঢালার আগে যে পাত্রে ঢালবেন সেই পাত্রটি আগে ফেটিয়ে নেওয়া দই গুলো দিয়ে ভালো ভাবে পুরো পাত্র মাখিয়ে নিবেন তারপর সেই পাত্রের মধ্যে দুধ গুলো ঢেলে ফেটিয়ে নেওয়া দই গুলো দিয়ে ভালোভাবে মিশিয়ে ঢেকে রেখে দিবেন তাহলেই ভালোভাবে দই জমে যাবে। 

তারপরেও যদি দই না জমে তাহলে আরেকটি উপায় অবলম্বন করতে পারেন সেটি হলো একটি পাত্রের মধ্যে পানি গরম করে নিয়ে হালকা তাপ অবস্থায় সেই পানির মধ্যে দইয়ের পাত্র টা রেখে পানির পাত্রের ঢাকনা লাগিয়ে দিয়ে কিছু সময় রাখবেন তাহলে দেখবেন দই জমে গেছে। দই না জমলে এই দুইটি উপায় অবলম্বন করবেন তাহলে ইনশাআল্লাহ দই জমে যাবে।

শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা সহজ কেন: শেষ কথা

প্রিয় বন্ধুরা আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা জানতে পারলেন শীতকাল থেকে গরমকালে দই তৈরি করা সহজ কেন, দই বানানোর রেসিপি, দই খাওয়ার উপকারিতা সহ এ সম্পর্কে তো আরো বেশ কিছু বিষয়ে। আশা করছি এগুলো বিষয়ে আপনি ভালোভাবে জানতে পেরেছেন। তারপরও যদি এই বিষয়ে আরো কোন কিছু জানার থাকে বা প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। 

এবং এরকম আরও বিভিন্ন রকম বিষয় জানতে আমাদের ওয়েবসাইট ফলো করতে পারেন। পরবর্তীতে কোন বিষয়ে জানতে চাইলে সেটা কমেন্টের মাধ্যমে আমাদের জানাতে পারেন। এতক্ষন আমাদের সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন