কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায় - রোজা মাকরুহ হওয়ার ১৬ টি কারণ

আপনি যদি একজন মুসলমান হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনার জেনে রাখা প্রয়োজন কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায় এবং রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণ গুলো সম্পর্কে। তাই আজকের এই পোস্টে আপনাদের জানাবো কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায় এবং রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণ গুলো সম্পর্কে।
কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়

আর কিছুদিন পরে রোজা শুরু হবে এবং আমাদের অনেক ভুলের কারণে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে তাই আজকের এই পোষ্টের মাধ্যমে জেনে রাখুন কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায় এবং রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণ গুলো। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায় - রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণ

কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়

অনেকগুলো কারণে একজন ব্যক্তির রোজা ভেঙ্গে যায় কেউ যদি ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভাঙ্গে তাহলে সেটা কবিরা গুনাহর মধ্যে পড়বে। রোজা মূলত তিনটি কারণে ভেঙে থাকে সেগুলো হলো কোন কিছু খাওয়া, কোন কিছু পান করা এবং দিনের বেলা স্ত্রী সম্পর্ক বা সহবাস করা। এই তিনটি মূল কারণ ছাড়াও রোজা ভঙ্গের আরো বেশ কিছু কারণ রয়েছে সেগুলো হলোঃ

১। কুলি করার সময় যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মুখের মধ্যে পানি যায় এবং সেগুলো গিলে ফেলেন তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।

২। যদি মুখে বমি আসে এবং সেগুলো বমি হালকা পরিমাণ মুখ থেকে পেটের মধ্যে চলে যায় তাহলে রোজা ভেঙ্গে যায়। 

৩। ভুলে কোন খাবার খেয়ে ফেলার পরে রোজা ভেঙ্গে গেছে মনে করে আরো খাবার খেয়ে ফেলেন তাহলে রোজা ভেঙ্গে যায়।

৪। কোন কারনে যদি নাকে আঘাত লাগে এবং নাক থেকে রক্ত বের হয়ে মুখে চলে আসে তাহলে রোজা ভেঙে যায়। 

আরো পড়ুন: যাকাত কাকে বলে - বর্তমানে কত টাকা থাকলে যাকাত ফরজ হয়

৫। নেশা জাতীয় দ্রব্য যেমন বিড়ি সিগারেট এবং মদ্যপান করলে রোজা ভেঙে যায়।

৬। রোজা থাকা অবস্থায় যদি স্বামী স্ত্রী সহবাস করেন তাহলে রোজা ভেঙ্গে যাবে। যদি সহবাসে বীর্য বের হয় অথবা না হয় তবুও রোজা ভেঙে যাবে। রোজা থেকে সহবাস করার মাধ্যমে রোজা ভাঙলে এটা অনেক পাপ হবে।

৭। নাক বা কান দিয়ে কোন তরল ঔষধ শরীরের ভিতরে প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যায়। 

৮। কেউ যদি রোজা থাকা অবস্থায় হস্তমৈথুন করে এবং বীর্য বের করে তাহলে রোজা ভেঙে যায়। 

৯। সহবাস করা ছাড়া যদি অন্য কোন পন্থায় যৌন স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করে অর্থাৎ একজন মেয়ের কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে অথবা চুমু দেয় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। 

১০। মেয়েদের প্রতি মাসে মাসিক হয়ে থাকে তাই রোজা থাকা অবস্থায় যদি কোন মেয়ের মাসিক হয় তাহলে সেই কারণে রোজা ভেঙে যায়। 

১১। রোজা থাকা অবস্থায় যদি শরীরে কোন শক্তিবর্ধক ইনজেকশন বা স্যালাইন প্রবেশ করানো হয় তাহলে সেই কারণে রোজা ভেঙে যায়। 

১২। ইফতারের সময় হয়েছে মনে করে যদি সূর্যাস্তের আগে ইফতার করে ফেলে তাহলে সে কারণে রোজা ভেঙে যায়। 

১৩। অনেক সময় খাবার খাওয়ার পরে সেগুলো আমাদের দাঁতের ফাঁকে আটকে যায় আর সেগুলো খাবার যদি আপনি রোজা থাকা অবস্থায় জিব্বা দিয়ে বের করে খেয়ে ফেলেন তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।

১৪। মুখে থুতু আসার পরে সেগুলো যদি ইচ্ছাকৃতভাবে খেয়ে ফেলে তাহলে সেই কারণেও রোজা ভেঙ্গে যায়। 

১৫। আসমান থেকে বৃষ্টির পানি যদি মুখে পড়ে এবং সেই পানি যদি গিলে ফেলেন তাহলে সেই কারণেও রোজা ভেঙে যাবে। 

১৬। রোজা থাকা অবস্থায় যদি ওযু করতে গিয়ে নাকে পানি দেওয়া অথবা গুলি করার সময় পেটের মধ্যে পানি চলে যায় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। 

১৭। প্রসাবের রাস্তা বা পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোন ধরনের ঔষধ বা কোন কিছু প্রবেশ করালে রোজা ভেঙে যাবে। 

১৮। রোজা থাকা অবস্থায় যদি কোন ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে তাহলে তার রোজা ভেঙে যাবে। 

১৯। রোজা না রাখার নিয়ত করলে এবং সেই নিয়ত বাতিল করে সারাদিন অনাহারে থাকলে সেই রোজা বাতিল বলে গণ্য হবে। এবং রোজা রাখার জন্য শুদ্ধ নিয়ত থাকতে হবে। 

২০। রোজা থাকা অবস্থায় কেউ যদি জোর করে কোন খাবার কাউকে খাওয়াই তাহলেও রোজা ভেঙে যাবে। কেউ যদি জোর করে কোন রোজাদার ব্যক্তিকে খাবার খাওয়াই এর জন্য তার অনেক পাপ হবে। তাই আপনারা কখনো এমন কাজ করবেন না। 

রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণ

কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায় তা তো আপনারা জানতে পারলেন কিন্তু আরও একটি বিষয় জেনে রাখা প্রয়োজন সেটা হলো রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণগুলো। রোজা থাকা অবস্থায় কিছু ছোট ছোট ভুল করলে সেই ব্যক্তির রোজা মাকরুহ হয়ে যেতে পারে। রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণ গুলো হলোঃ

  • সারাদিন রোজা রাখার পরে যদি কোন হারাম খাবার দিয়ে ইফতার করা হয় তাহলে রোজা মাকরুহ হবে। 
  • কোন কারণ ছাড়া যদি মুখে কোন কিছু দিয়ে চিবাতে থাকেন এবং সেটা না গিলে ফেললেও রোজা মাকরুহ হবে। 
  • কোন কিছু মুখে দিয়ে না খেয়েও যদি রেখে দেন তাহলে রোজা মাকরুহ হবে। 
  • যদি মুখের মধ্যে অতিরিক্ত থুতু আটকে রেখে সেগুলো গিলে ফেলেন তাহলে রোজা মাকরুহ হবে।
  • রোজা থাকা অবস্থায় যদি নাক দিয়ে পানি টেনে নেন অথবা পানি দিয়ে অতিরিক্ত গড়গড়া করতে থাকেন তাহলেও রোজা মাকরুহ হবে। 
  • রোজা থাকা অবস্থায় যদি সারাদিন শরীর নাপাক থাকে তাহলে সেই কারণেও রোজা মাকরুহ হবে।
  • রোজা থাকা অবস্থায় যে কোন ধরনের পেস্ট পাউডার এবং মাজন দিয়ে দাঁত ব্রাশ করলে রোজা মাকরুহ হবে। 
  • অতিরিক্ত গরমের কারণে যদি বারবার মুখে পানি নিয়ে কুলি করা হয় তাহলেও রোজা মাকরুহ হবে।
  • রোজা থেকে মিথ্যা কথা বললে সেই ব্যক্তির রোজা রোজা মাকরুহ হবে। মিথ্যা বলা মহাপাপ তাই কখনো মিথ্যা বলবেন না। 
  • রোজা থাকা অবস্থায় কারো পরনিন্দা বা গীবত করা হয় তাহলে রোজা মাকরুহ হবে। 
  • নেশা জাতীয় দ্রব্য যেমন গুল বা জর্দা মুখে দিয়ে রাখলে রোজা মাকরুহ হবে। এবং সেগুলো যদি পেটের মধ্যে চলে যায় তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। 
  • রোজা থাকা অবস্থায় যদি মুখ দিয়ে কোন অশ্লীল বাক্য বের হয় অথবা কাউকে অশ্লীল ভাষায় গালি দেওয়া হয় তাহলে রোজা মাকরুহ হবে। 
  • রোজা থাকা অবস্থায় যদি সিনেমা নাচ গান দেখা হয় তাহলে রোজা মাকরুহ হবে। 
  • ঝগড়া বিবাদ এবং মারামারি করলে রোজা মাকরুহ বলে গণ্য হবে। 
  • যৌন উদ্দীপক কোন কিছু দেখলে এবং কান দিয়ে শুনলে রোজা মাকরুহ হবে।
  • কোন রকম কারণ ছাড়া জিব্বা দিয়ে কোন খাবারের স্বাদ গ্রহণ করলে রোজা মাকরুহ হবে। তবে স্বামী যদি বদমেজাজি হয় তাহলে সেই কারণে জিব্বা দিয়ে তরকারি স্বাদ গ্রহণ করার অনুমতি রয়েছে তবে সেটা গিলে ফেলা যাবে না। 

রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ pdf

অনেকে রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ মনে রাখতে পারেন না সেজন্য রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ pdf  ফাইল খুঁজে থাকেন যাতে করে সেই ফাইল ডাউনলোড করে সব সময় সাথে রাখা যায় এবং সেখান থেকে পড়ে পড়ে মনে রাখা যায় কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায়। 

তাই আপনারা চাইলে ইন্টারনেট থেকে রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ pdf ফাইল খুঁজে বের করে ডাউনলোড করে রাখতে পারেন তাহলে আপনাদের রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ সম্পর্কে জানতে অনেকটা সুবিধা হবে। আর যদি আমাদের থেকে পেতে চান তাহলে কমেন্ট করে জানাতে পারেন আমরা তৈরি করে আপনাদের দেওয়ার চেষ্টা করব। 

মেয়েদের রোজা ভঙ্গের কারণ

ছেলে এবং মেয়েদের রোজা ভঙ্গের কারণ সবগুলো একই তবে মেয়েদের রোজা ভঙ্গের নির্দিষ্ট একটি কারণ রয়েছে সেটা হল মেয়েদের প্রতি মাসে একবার করে মাসিক হয়। তাই কোন মেয়ের যদি রোজা থাকা অবস্থায় হায়েজ অথবা নেফাজ হয় অথবা প্রসবের রাস্তা দিয়ে সাদাস্রাব বা রক্তস্রাব যায় তাহলে সেই কারণে রোজা ভেঙে যাবে। 

এ কারণে যদি মেয়েদের রোজা নষ্ট হয়ে থাকে তাহলে পরবর্তীতে শুধুমাত্র সেই কাজা রোজা গুলো আদায় করতে হবে। এবং হায়েজ অথবা নেফাজ অবস্থায় যেগুলো নামাজ কাজা গেছে পরবর্তীতে সেগুলো আদায় করতে হবে না। 

আরো পড়ুন: পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ফরজ কয়টি - নামাজের ১৩ ফরজ কি কি

এগুলো কারণে আল্লাহ মেয়েদেরকে বিশেষভাবে ছাড় দিয়েছেন। এবং এগুলো কারণে যদি রোজা ভেঙ্গে যায় পরবর্তীতে সেই রোজার কাফফারা আদায় করতে হবে না। তবে সহবাসের কারণে যদি রোজা ভেঙ্গে যায় তাহলে কাফফারা এবং কাজা দুটাই আদায় করতে হবে। 

মাহে রমজানের পর সর্বোত্তম নফল রোজা কোনটি

মাহে রমজানের পরে অনেক নফল রোজা রয়েছে সেগুলো সকল মুসলিমদের জন্য পালন করা প্রয়োজন কারণ মাহে রমজানের পরে এগুলো রোজা আমাদের রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রাখতেন বা পালন করতেন। 

মাহে রমজানের পর সর্বোত্তম নফল রোজা হলো আশুরার রোজা। আমাদের বিশ্বনবী মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমজানের রোজার পরে এই আশুরার রোজা কে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতেন। তাই আমাদের উচিত মাহে রমজানের পরে আশুরার নফল রোজা পালন করা। 

স্বপ্নদোষ কি রোজা ভঙ্গের কারণ

রোজা রাখার পরে বেশিরভাগ সময় দিন থাকে সেজন্য স্বপ্নদোষ হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটা কম থাকে তারপরেও রোজা রাখা অবস্থায় যদি কেউ দুপুরবেলা ঘুমায় এবং সেই ব্যক্তির ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হয় তাহলে রোজা ভাঙবে না। তবে রোজা থাকা অবস্থায় যদি স্বপ্নদোষ হয় তাহলে গোসল করতে হবে কারণ স্বপ্নদোষ হলে গোসল করা ফরজ হয়ে যায়। 

আমাদের শেষ কথা

প্রিয় বন্ধুরা আশা করছি পোস্টটি পড়ার পরে আপনারা জানতে পেরেছেন কি কি কারণে রোজা ভেঙে যায় রোজা মাকরুহ হওয়ার কারণ রোজা ভঙ্গের কারণ সমূহ pdf মেয়েদের রোজা ভঙ্গের কারণ মাহে রমজানের পর সর্বোত্তম নফল রোজা কোনটি স্বপ্নদোষ কি রোজা ভঙ্গের কারণ এই সকল বিষয়ে।

তারপরেও যদি আপনাদের এই সকল বিষয়ে আরো কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। এবং এরকম আরো বিভিন্ন বিষয়ে জানতে নিয়মিত আমাদের JONOPRIYO BLOG ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারেন। সবাই ভালো থাকবেন। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন