বিসিএস পরীক্ষা কত বছর পর পর হয়

আসসালামু আলাইকুম বিসিএস পরীক্ষা কত বছর পর পর হয় এই বিষয়ে অনেকেই জানতে চেয়ে থাকেন। এছাড়াও বিসিএস পরীক্ষা সম্পর্কে আরো অনেক প্রশ্ন রয়েছে যেগুলো আপনারা ইন্টারনেটে প্রতিনিয়ত খুঁজে থাকেন। তাই আজকের এই পোস্টের মাধ্যমে আপনাদের বিসিএস এর বেশ কিছু তথ্য জানানোর চেষ্টা করব। 
বিসিএস পরীক্ষা কত বছর পর পর হয়

তো আপনি যদি জানতে চান বিসিএস পরীক্ষা কত বছর পর পর হয় এই বিষয় সহ এই সম্পর্কিত আরো অনেক বিষয়ে তাহলে নিজের অংশগুলো মনোযোগ সহকারে শেষ পর্যন্ত পড়তে থাকুন। 

পোস্ট সূচিপত্রঃ বিসিএস পরীক্ষা কত বছর পর পর হয় 

বিসিএস পরীক্ষা কত বছর পর পর হয়

বিসিএস যেটাকে বলা হয় বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস। তো যারা বিসিএস পরীক্ষা দিতে চাচ্ছেন তাদের মনে এই প্রশ্নটি অবশ্যই আসে যে বিসিএস পরীক্ষা কত বছর পর পর হয়? আপনারা হয়তো জানেন বাংলাদেশের চাকরির বয়সসীমা ৬০ বছর হয়ে থাকে সেজন্য প্রতিবছর শূন্য কোটা হয়ে যায়। 

কারণ প্রতিবছর কারো না কারো ৬০ বছর পূর্ণ হয়ে যায়। এতে করে নতুন দের চাকরি দেওয়ার মাধ্যমে শূন্য কোটা গুলো পূরণ করা হয়। সেজন্য বিসিএস পরীক্ষা প্রতি বছর হয়ে থাকে। এবং প্রতিবছর মে থেকে জুন মাসের মধ্যে এই পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। 

বিসিএস পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায়

বিসিএস পরীক্ষার বয়সসীমা ৩০ বছর হয়ে থাকে সেজন্য আপনার বয়স ৩০ বছর হওয়ার পূর্বে যতবার ইচ্ছা ততবার বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারবেন। তবে এই বিসিএস পরীক্ষা নিয়ে বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায় নিউজ দেখা গেছে দুইবারের বেশি বিসিএস পরীক্ষা নেওয়া হবে না এরকম সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 

আরো পড়ুন: student এর পূর্ণরূপ কি - Class এর পূর্ণরূপ কি 

কারণ যখন একজন পুরাতন ব্যক্তি অধিক বার বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তখন এখানে নতুনদের টিকে থাকা কিছুটা মুশকিল হয়ে পড়ে। কারণ পুরাতনরা কয়েকবার অংশগ্রহণ করে বেশি দক্ষতা অর্জন করে ফেলে এতে করে নতুনরা সুযোগ হারায়। তবে এই সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকরী হবে তা এখনো জানা যায়নি। তাই ৩০ বছর হওয়ার আগে যতবার ইচ্ছা ততবার বিশেষ পরীক্ষা দিতে পারবেন। 

বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা বয়স

কঠিন প্রতিযোগিতামূলক একটি পরীক্ষা হল বিসিএস পরীক্ষা এখানে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন রকম যোগ্যতা প্রয়োজন হয়। এগুলো সকল যোগ্যতা যখন একজন ব্যক্তির মধ্যে থাকে এবং সেগুলো প্রকাশ করতে পারে সেই ব্যক্তিটি নির্বাচিত হয়। সাধারণ বিসিএস পরীক্ষার্থীদের বয়সসীমা ২১ থেকে ৩০ বছর। মুক্তিযুদ্ধের পুত্র কন্যা এবং প্রতিবন্ধী কোটায় বয়সসীমা ৩২ বছর। এছাড়াও বিসিএস কারিগরি শিক্ষা সাধারণ শিক্ষা এবং স্বাস্থ ক্যাডারে উপজাতিদের বয়সসীমা ৩২ বছর হয়ে থাকে।

আর বিশেষ পরীক্ষার জন্য অনেকগুলো যোগ্যতার প্রয়োজন হয় সেগুলো হলো শিক্ষাগত যোগ্যতা, শারীরিক যোগ্যতা, নাগরিকত্ব এবং বয়স সীমা। শিক্ষাগত যোগ্যতার মধ্যে কমপক্ষে স্নাতক পাস করতে হবে তাহলে বিসিএস পরীক্ষা দিতে পারবে। এছাড়াও কেউ যদি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ৩ বছর মেয়াদী ডিগ্রী কোর্স করে তাহলে ডিগ্রি পাস করার পরে মাস্টার্স বা স্নাতকোত্তর পাশ করতে হবে তারপরে বিসিএস দিতে পারবে। 

এবং বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য অবশ্যই বাংলাদেশী নাগরিকত্ব থাকতে হবে। এরপরে শারীরিক যোগ্যতা প্রয়োজন হবে লিখিত এবং মৌখিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে শারীরিক যোগ্যতার জন্য মেডিকেল টেস্ট করা হবে। মেডিকেল টেস্টে সাধারণত ওজন, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, মূত্র পরীক্ষা, উচ্চতা ও বক্ষ পরীক্ষা করা হবে। তো আশা করছি বুঝতে পারলেন বিসিএস পরীক্ষার জন্য আপনার কি কি যোগ্যতা থাকতে হবে। 

বিসিএস দিতে কত পয়েন্ট লাগে

বিসিএস পরীক্ষা দেওয়ার জন্য এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক/ডিগ্রী এবং মাস্টার্স সব মিলিয়ে ১১.৫০ পয়েন্ট থাকলে বিসিএস পরীক্ষার জন্য আবেদন করা যাবে। কোন পরীক্ষায় কত পয়েন্ট পেলে আপনি বিসিএস পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন তা জেনে নিন।

  • এসএসসি পরীক্ষাতে সর্বনিম্ন ৪.০০ পয়েন্ট থাকতে হবে
  • এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বনিম্ন ২.৫০ পয়েন্ট থাকতে হবে।
  • ডিগ্রী স্নাতক পরীক্ষায় সর্বনিম্ন ৩.০০ পয়েন্ট থাকতে হবে
  • মাস্টার্স পরীক্ষায় সর্বনিম্ন ৩.০০ পয়েন্ট থাকতে হবে
এই পয়েন্ট যদি আপনার থাকে তাহলে বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবেন তবে এই পয়েন্টের চান্স অনেকক্ষণ থাকে সেজন্য আপনার যদি আরো বেশি পয়েন্ট থাকে তাহলে ভালো হয়। তবে আপনার যদি এইচএসসি পরীক্ষায় কম পয়েন্ট থাকে তাহলে ইন্টারভিউ পরীক্ষায় বাদ পড়তে পারেন। 

বিসিএস লিখিত পরীক্ষা কত দিনে হয়

বিসিএস লিখিত পরীক্ষা কতদিনে হয় এটার সঠিক উত্তর দেওয়া সম্ভব নয় কারণ বিপিএসসি এর সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে বিসিএস লিখিত পরীক্ষা কত দিনে হবে। অনেক সময় দেখা যায় প্রিলির তিন মাস পর লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় আবার অনেক সময় ছয় মাস পর লিখিত পরীক্ষা হয়ে থাকে।পরীক্ষা যখনই হোক আপনাদের সব সময় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে থাকতে হবে। 

বিসিএস প্রিলির কতদিন পর রিটেন হয়

বিসিএস প্রিলির কতদিন পর রিটেন হয় এটা সঠিক কোন উত্তর নেই কারণ এটা নির্ভর করে একমাত্র সরকারি কর্ম কমিশন এর ওপরে। তারা যখন সময় নির্ধারণ করবে তখন রিটেন হবে। তবে বিসিএস প্রিলির পর ৩ মাস থেকে ৬ মাসের মধ্যে রিটেন হয়ে থাকে। 

বিসিএস পড়ার নিয়ম

বিসিএস পড়ার জন্য আপনাকে বেশ কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে যদি এগুলো আপনি মেনে চলতে পারেন তাহলে আপনি বিসিএস পরীক্ষায় ভালো করতে পারবেন। বিসিএস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিতে চাইলে প্রথমে প্রথম থেকে শুরু করবেন এবং প্রথম অবস্থায় অল্প অল্প করে পড়ার চেষ্টা করবেন। 

বিশেষ করার জন্য আপনাকে আপনার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে এবং সেই লক্ষ্য অনুযায়ী পড়তে হবে। আপনি যখন কোন বিষয় পড়বেন তখন সেই বিষয়ের বেসিকগুলো সম্পর্কে ধারণা রাখবেন। বিসিএস এর সিলেবাস হয়েছে সেটা সম্পর্কে আপনাকে ভালোভাবে ধারণা নিতে হবে। 

আরো পড়ুন: অনার্স ২য় বর্ষের সকল বিভাগের বইয়ের তালিকা দেখে নিন 

বিশেষ পরীক্ষার জন্য আপনাকে গণিতে বেশি বেশি চর্চা করতে হবে এবং ইংরেজিতে যাতে করে কোন ভয় কাজ না করে সেজন্য বেশি বেশি চর্চা করতে হবে ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে। বিসিএস প্রস্তুতির অনেকগুলো বই রয়েছে সেগুলো প্রতিনিয়ত পড়তে হবে। এবং কৃপণতা করা যাবেনা বই কিনার ক্ষেত্রে। সবশেষে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য নিজেকে ভালোভাবে জানতে হবে ও চারিপাশের সকল কিছু ভালোভাবে জানতে হবে। 

বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি

বিসিএস প্রিলির কয়েক মাস পরে ৪ টি ধাপে পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা হয়ে থাকে প্রথমটি হল এমসিকিউ প্রাথমিক পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা, ইন্টারভিউ অর্থাৎ মৌখিক পরীক্ষা এবং সবশেষে শারীরিক পরীক্ষা অর্থাৎ মেডিকেল টেস্ট। এই সকল পরীক্ষায় যদি কোন ব্যক্তি পাস করতে পারে তাহলে সে বিসিএস ক্যাডার হতে পারবে। তাহলে আশা করছি বিসিএস পরীক্ষা পদ্ধতি সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পেলেন। এই সম্পর্কে যদি আরো কোন কিছু জানতে চান তাহলে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। 

বিসিএস পরীক্ষার ফি

বিসিএস পরীক্ষার ফি কত এ প্রশ্নটি সচরাচর সবার জানার প্রয়োজন হয়। যারা বিসিএস পরীক্ষার জন্য আগ্রহী তাদেরকে প্রথমে আবেদন করতে হবে আবেদন করতে আপনার প্রয়োজন হবে শিক্ষাগত যোগ্যতা, ব্যক্তিগত তথ্য এবং কোন ক্যাটাগরিতে আবেদন করবেন সেটা সিলেক্ট করতে হবে। সবকিছু সম্পন্ন হওয়ার পরে আপনাকে বিসিএস পরীক্ষার ফি বাবদ ৭০০ টাকা। প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র জাতি গোষ্ঠী এবং তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের ফি বাবদ ১০০ টাকা দিতে হবে। 

বিসিএস পরীক্ষা কত বছর পর পর হয়: শেষ কথা

প্রিয় বন্ধুরা আশা করছি আজকের আর্টিকেল থেকে আপনারা বিসিএস পরীক্ষা কত বছর পর পর হয় বিসিএস পরীক্ষা কতবার দেওয়া যায় বিসিএস পরীক্ষার যোগ্যতা বয়স সহ এরকম আরো বেশ কিছু বিষয়ে বিস্তারিতভাবে জানতে পেরেছেন। 

তারপরও যদি আপনাদের এ বিষয়ে কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে আমাদের জানাতে পারেন। এছাড়া আপনার কোন মতামত থাকলে সেটাও জানাতে পারেন। এবং এরকম আরো শিক্ষামূলক তথ্য পেতে আমাদের JONOPRIYO BLOG ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করতে পারেন ধন্যবাদ। 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন